মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জ নিয়ে ভোগান্তি

../news_img/54795 mrin.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক ভোগান্তিও বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমানো উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে সাধারণ ব্যাংকিং সেবার চেয়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ প্রায় ৫ গুণ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৪৯ লাখ ৫ হাজার লেনদেন হচ্ছে। এতে গড়ে দৈনিক লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমান প্রায় ৮৪৫ কোটি টাকা। এমএফএস সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি। সারা দেশে ৭ লাখ ৪৬ হাজার এজেন্ট এই ব্যাংকিং কার্যক্রমে জড়িত আছেন। আর ৫ কোটি ২৬ লাখ গ্রাহক এই কার্যক্রমের আওতায় সেবা নিচ্ছেন।

২০১০ সালে দেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৮টি ব্যাংক অনুমোদন নিয়েছে এই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই সেবা চালু করেছে ১৭টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকের সংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

বিভিন্ন মহল থেকে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ সাধারণ ব্যাংকিং চার্জ থেকে অনেক বেশি বলে অভিযোগ করার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই চার্জ কমানোর বিষয়ে একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোন অগ্রগতি হয়নি।

সূত্র জানায়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ১০০ টাকা পাঠাতে ১ টাকা ৮৬ পয়সা চার্জ দিতে হয়। এই হিসেবে ১০ হাজার টাকায় সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়া হয় ১৮৫ টাকা। আবার রিটেইলারদের থেকেও অতিরিক্ত ২ শতাংশ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি নিয়ে থাকে। ফলে এই সেবা জনগণের উপর এখন মরার ওপর খারার ঘা।

অন্যদিকে, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতি ১০০ টাকা পাঠাতে গ্রাহককে খরচ করতে হয় মাত্র ৪০ পয়সা। এ হিসেবে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর চেয়ে মোবাইলে টাকা পাঠাতে একজন গ্রাহককে ৫ গুণ বেশি চার্জ দিতে হয়।

এই অত্যাধিক চার্জের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন একে ‘তামাশা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১০০ টাকা পাঠাতে লাগে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। মতলবটা ভাল না। ১ টাকা ৮৫ পয়সা মানেই ২ টাকা। ২ টাকা দিয়ে যিনি পাঠাবেন তার তো একাউন্ট নাই।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে যদি ১০০ টাকায় মাত্র ৪০ পয়সা লাগে, তাহলে মোবাইল ট্রান্সফারে কেন ১ টাকা ৮৬ পয়সা বা ২ টাকা লাগবে?

তিনি বলেন, আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং চলছে দেখে কিছু বিদেশী ধন্য ধন্য দিচ্ছে। বিষয়টি খুব ভালো করে চিন্তা-ভাবনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ওই জায়গায় হাত দিতে হবে। অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ একটা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ সাধারণ ব্যাংকিং চার্জের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এটি একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের জন্য ‘গাইডলাইন’ করলেও তা অনেকেই মানে না। তাই অনিয়ম দিন দিন বেড়ে চলেছে, যে কারণে গ্রাহকরা ভোগান্তি এবং নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ কমানো উচিত।’

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে কোথাও মোবাইল ব্যংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। গাইডলাইনের ৭ এর ৪ নম্বরে বলা আছে, ‘সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক।’ বর্তমানে সার্ভিস চার্জ সব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের একই অর্থাৎ ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ যা ১০০ টাকায় ১ দশমিক ৮৫ টাকা বা ১০ হাজার টাকায় ১৮৫ টাকা। আবার রিটেইলাররা এর থেকেও অতিরিক্ত ২ শতাংশ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি নিয়ে থাকে। এই সেবা মরার ওপর খারার ঘা হিসাবে জনগণের ওপর এসে পড়ছে।