নিষেধাজ্ঞা না মানায় পাবনায় ১৮ জেলের কারাদন্ড

../news_img/55974mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাবনায় পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে পুলিশ ১০ মন মা ইলিশ, তিনটি নৌকা ও ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জালসহ ১৮ জন জেলেকে আটক করেছে।

বুধবার ভোর রাতে জেলার সুজানগর উপজেলা এলাকার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে প্রত্যেকের এক বছর করে কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক।

পাবনার সুজানগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, মজুত ও বিনিময় করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সারা দেশে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও সুজানগর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাছ ধরা অব্যাহত রাখে জেলেরা।

ফলে বুধবার ভোর রাতে সুজানগর পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার যৌথ অভিযানে ১৮ জন জেলেকে ১০ মন মা ইলিশ, ৩টি নৌকা ও ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে ওই জেলেদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। জব্দ করা মাছ মানিকদিয়ার এতিম খানায় দেয়া হয়েছে।

এদিকে সুজানগর উপজেলার মৎস্যজীবীরা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সরকারী আইন অনুযায়ী আমাদেরও প্রত্যেকের চাল ও নগদ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেয়নি। আমরা নদীতে মাছ না ধরলে খাব কি? তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান পরিচালনা করছেন, অথচ আমাদের সরকারী পাওনা দেয়ার ব্যাপারে কিছুই বলছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‌‘জেলেদের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। শিগগিরই তারা সেগুলো পেয়ে যাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধন করতে দেয়া হবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’