কনস্টেবল স্ত্রীর সঙ্গে বিছানায় অপ্রীতিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরলো এলাকাবাসী

../news_img/54978 mrin k.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় কর্মরত নারী পুলিশ কনস্টেবল এবং পুলিশের এক এএসআই আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় দুজনকে হাতেনাতে ধরেন এলাকাবাসী।

রাজিয়ার ভাড়া বাসা থেকে তাদের ধরা হয়। এ ঘটনায় নারী পুলিশ কনস্টেবলের স্বামী ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার অভিযুক্ত নারী কনস্টেবল ও এএসআইকে সোনাডাঙ্গা থানা থেকে বদলি করা হয়।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, নারী পুলিশ কনস্টেবল লবণচরা থানায় এবং এএসআইকে রূপসা পুলিশ বক্সে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্তনাধীন। তবে নারী কনস্টেবল ও তার স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ ছিল বলেও জানান তিনি।

নারী কনস্টেবলের স্বামী খুলনা ওয়াসার কর্মচারী। তার অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বৌবাজার সংলগ্ন এলাকায় ১৫৫/৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের সৈয়দ মঞ্জিলের নিচ তলায় ভাড়া থাকেন অভিযুক্ত এএসআই ও তার স্ত্রী পুলিশ কনস্টেবল।

আড়াই বছর বয়সের তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ১ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে রবিউল ওয়াসার পানির পাম্পের ডিউটিতে বের হন। এরপর রাত ২টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে স্ত্রীকে দরজা খুলতে বলেন।

এ সময় অন্য দিনের তুলনায় একটু ব্যতিক্রম কিছু উপলব্ধি করেন স্বামী। তার স্ত্রী দরজা খুলতে অনেক সময় নেন। একপর্যায়ে স্বামীর অতিরিক্ত ডাকাডাকির পর দরজা খোলেন।

ঘরে প্রবেশ করে স্বামী দেখতে পান তাদের শোয়ার একটি কক্ষের দরজায় তালা। তিনি স্ত্রীকে ওই কক্ষের দরজা খুলতে বললে স্বামীকে অপর একটি কক্ষে ঘুমানোর জন্য বলেন। কিন্তু স্বামী ওই ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করেন স্ত্রীকে। অবশেষে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। খাটের নিচে পাওয়া গেল একই থানায় কর্মরত পুলিশেরে এক এএসআইকে।

স্বামী এ দৃশ্য দেখে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে স্ত্রী ও সেই এএসআই তাকে বাধা দেন। এ সময় স্বামী চোর চোর বলে চিৎকার দিলে এএসআই তার গলা চেপে ধরেন। গভীর রাতে ঘরের শব্দ আশপাশের লোকজন শুনে ঘটনাস্থলে এসে স্বামীকে উদ্ধার করেন।

কিছুক্ষণ পরই সোনাডাঙ্গা মডেল থানার টহল গাড়ি এসে অভিযুক্ত এএসআই ও নারী কনস্টেবলকে নিয়ে যায়। সেই থেকে স্বামীর ঘরে আর ফেরেননি অভিযুক্ত নারী কনস্টেবল।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় সময় ওই এএসআই নারী কনস্টেবলকে মোটরসাইকেলে বাসার সামনে নামিয়ে দিতেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতেন। শিশুকন্যা নিয়ে এখন স্বামী ওই বাসায় রয়েছেন।