বদরুল কেড়ে নিতে পারেনি খাদিজার স্বপ্ন!

../news_img/56081mrmm.jpg


মৃদুভাষণ ডেস্ক :: খাদিজা বেগম নার্গিস। মৃত্যুঞ্জয়ী কলেজছাত্রী। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল তার শরীর। বেঁচে থাকার আশা ছিল ক্ষীণ। চিকিৎসকদের  আন্তরিক প্রচেষ্ঠা, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আর সাধারণ মানুষের দোয়ায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছে সে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠছে খাদিজা। সুস্থতার সাথে মনের মাঝে ঝিইয়ে রাখা স্বপ্নগুলোও মেলতে শুরু করেছে ডানা।

খাদিজা ফিরতে চায় প্রিয় ক্যাম্পাস সরকারি মহিলা কলেজে। পড়ালেখা শেষ করে স্বপ্ন পূরণে হতে চায় ব্যাংকার। পেশা হিসেবে ব্যাংকিংকে বেছে নিলেও সারাজীবন কাজ করতে চায় নির্যাতিতা নারীদের জন্য। বদরুল নামক পাষন্ডের বর্বরোচিত হামলায় খাদজিার শরীরের শক্তি কমলেও বাড়িয়ে দিয়েছে মনের জোর। সেই মনোবল নিয়েই সে পূরণ করতে চায় তার স্বপ্নগুলো। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাথে আলাপচারিতায় নিজের স্বপ্নের কথাগুলো জানিয়েছেন খাদিজা। বলেছেন তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা।

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলার শিকার হন সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিস। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে বদরুল। প্রথমে থাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। সর্বশেষ সাভারস্থ সিআরপিতে চিকিৎসা শেষে সিলেটের বাড়িতে ফেরেন তিনি।

হামলায় আহত হওয়ার সময় খাদিজা ছিলেন স্নাতক ২য় বর্ষের পরীক্ষার্থী। আহত হওয়ার কারনে সবকটি পরীক্ষা দেয়া হয়নি তার। কিন্তু এতেই দমে যেতে চান না খাদিজা। সুস্থ হয়েই ফিরতে চান সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রিয় ক্যাম্পাসে। খাদিজা জানান, আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেক ভালো। তবে মাঝে মধ্যে হাতে, পায়ে ও মাথায় প্রচন্ড ব্যথা হয়। তখন হাটাচলা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। বাম হাতে এখনো একটি অস্ত্রোপচার বাকি আছে। কয়েক মাসের মধ্যে সেটি করিয়ে নিবেন। এরপর সুস্থ হয়ে ওঠলেই তিনি আবার শুরু করতে চান পড়ালেখা।

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে খাদিজা বলেন, তার একটি স্বপ্ন আছে। সে স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে চান। ব্যাংকার হতে চান তিনি। প্রতিষ্ঠিত হতে চান নিজের পায়ে। সেই আত্মনির্ভরশীলতাই তাকে নির্যাতিতা নারীদের পথিকৃৎ করে তুলবে বলে মনে করেন খাদিজা। তবে শুধু ব্যাংকার হিসেবেই জীবন কাটাতে চান না তিনি। কাজ করতে চান নির্যাতিতা নারীদের জন্য।

খাদিজা বলেন, ‘আমি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। আমি চাই না আমার মতো আর কোন নারী হামলার শিকার হন। আমি নারীদের সাহস যোগাতে চাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। ভয় পেলে চলবে না, নারীদের উচিত সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। নিরবে অন্যায় সহ্য না করে তাদেরকে প্রতিবাদী হতে হবে। আমি সারাজীবন নারী অধিকার নিয়েই কাজ করতে চাই।’

হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বদরুল আলম এখন সিলেট কারাগারে বন্দি। বদরুল বন্দি থাকলেও স্বস্তিতে নেই খাদিজার পরিবার। খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস জানান, জেলে থেকেও বদরুল নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। সে বের হয়ে আসলে আমাদের ক্ষতি করবে বলে কারাগার থেকে বের হওয়া অনেককে বলছে। এছাড়া বদরুলের ভাই এলাকায় নানা অপপ্রচার চালিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমরা সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

ঢাকা থেকে ফেরার পর সিলেটের উপশহরস্থ ইসকন্দর-সিতারা সিআরপি সেন্টারে চিকিৎসা চলছে খাদিজার। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও সেখান থেকে দেয়া হচ্ছে থেরাপি। ইসকন্দর-সিতারা সিআরপি সেন্টারের চিকিৎসক চৌধুরী মো. কামরুল হাসান জানান, খাদিজার শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে। সে এখন অনেকটা আত্মনির্ভরশীল। শুধু বাম হাতে কিছুটা বেশি সমস্যা রয়েছে। ওই হাতে আরো একটি অপারেশন লাগবে। আরো ৩-৬ মাস চিকিৎসা নেয়ার পর খাদিজা পুরোপুরি সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।