পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানো দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

../news_img/56093mmm.jpg


মৃদুভাষণ ডেস্ক::বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন আটকানোয় অনিশ্চয়তায় পড়েছিল পদ্মা সেতু; নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরুর পর সেই সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর খবর শুনে আনন্দে কেঁদেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম স্প্যানটি যখন বসানো হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তিনি।

শনিবার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের ওই সময়কার অনুভূতি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তার অনুপস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসানোর তারিখ পিছিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

“ওবায়দুল কাদের বারবার মেসেজ পাঠাচ্ছে, ফোনে কথা হচ্ছে, বলছে, ‘আপনার জন্য দেরি করব’। আমি বললাম, না । দেরি করবা না।”

যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৩টায় সেতুর স্প্যান বসানোর খবরটি পান শেখ হাসিনা।

“ওবায়দুল কাদেরও মেসেজ পাঠালো, তার সচিবও মেসেজ পাঠালো যে, সুপার স্ট্রাকচারটা বসে গেছে। আমি তো জেগেই ছিলাম। আমি বললাম, আমাকে ছবি পাঠাও। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ছবি এবং ভিডিও ক্লিপ পাঠালো।

“ওই সময় বসে দেখে সত্যি কথা বলতে কী..আমরা দুই বোন ওখানে কেঁদেছিলাম…রেহানা, আমি.. কী যে অপমান, কত কিছু যে হয়েছে, তা বলার মতো না।”

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত করেছিল বিশ্ব ব্যাংক। এই দুর্নীতিতে শেখ হাসিনার পরিবার জড়িত ছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি, রেহানা, আমাদের ছেলে-মেয়ে ওদেরকে নিয়ে.. আন্তর্জাতিক সংস্থা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে..কার কী সম্পত্তি, কী ভাবে..এমন ভাবে তদন্ত করেছে; যেটা মানসিক যন্ত্রণাটা যা দিয়েছে, আমি বলব, মানসিক অত্যাচার করেছে।”

বিশ্ব ব্যাংকের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ আদালতে ‘ভুয়া’ বলে প্রমাণিত হওয়ার পর তখন সেই অভিযোগকারীদের নানা কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

“ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একজন ইন্ট্রিগ্রিটি অফিসার এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন অফিসে বলে বেড়াত; বাংলাদেশের একজনই সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত, সেখানে আমার নাম বলত।

“এখন দেখেছেন; যিনি বেশ লাফাচ্ছিলেন, তারই ৪০ হাজার নথি বের হচ্ছে।”

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র তদন্ত পর্যবেক্ষণে বিশ্ব ব্যাংকের হয়ে বাংলাদেশে আসা প্রতিনিধি দলের প্রধান লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ অনেক অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর থাকাকালে অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং করস্বর্গ (ট্যাক্স হেভেনস) নামে পরিচিত দেশ ও এলাকায় তার কোম্পানি থাকার তথ্য উঠে এসেছে ফাঁস হওয়া নথিতে।

বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েনের এক পর্যায়ে সংস্থাটিকে ‘না’ জানিয়ে দিয়ে ২০১৫ সালে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকায় এই সেতু তৈরির কাজ শুরু করে সরকার।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেও কারও কারও সন্দেহ প্রকাশ করার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

“পদ্মা সেতু যে নিজেদের টাকায় করতে পারব; তা অনেকে বিশ্বাস করতে পারেনি, অনেক সিনিয়র কেবিনেট মেম্বাররাও বিশ্বাস করতে পারেনি। সবাই বলতেন,ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ছাড়া কেউ করতে পারবে না। আমি বলতাম,যতদিন না নিজেরা করতে পারব,ততদিন করবই না।”

এখন সেই সেতুর কাজ এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংককে ‘জবাব’ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা।

“আমি এটুকু বলতে পারি, অনেক অপমানের একটা জবাব আমরা দিতে পারলাম।”