বুধবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

../news_img/56143mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বুধবার (১১ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার জেলা জজ আদালতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে বসে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সংলাপ বা সমঝোতা হবে না। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের মাঝেই চরম আক্রোশের একটা পূর্বাভাস ছিল। এখন তিনি দেশে ফিরে বিরোধী দলশূন্য বাংলাদেশ বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের যে সন্ত্রাসী আক্রমণ তার প্রথম নমুনা আজ আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম। নিম্ন আদালতকে কব্জায় নেয়ার পর এখন গায়ের জোরে সর্বোচ্চ আদালতকে ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার সব ধরনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে একক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম নিশ্চিত করতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার তা নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীন স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত সর্বোচ্চ আদালতকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি পাশবিক কায়দায় সর্বোচ্চ আদালত ধ্বংসের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করছি। ক’দিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের বেপরোয়া আস্ফালনে দেশবাসী বিমূঢ় ও বিস্ময়ে হতবাক। এখন সেই আস্ফালনে উৎসাহিত হয়ে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। যার প্রথম বহিঃপ্রকাশ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।’

রিজভী বলেন, ‘দেশবাসী জানে বেগম খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তিনি এখনও লন্ডনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শেষে তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরবেন। তার ফেরার সময়ও প্রায় আসন্ন। আর ঠিক এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক। এর মাধ্যমে দেশে সরকারের সৃষ্ট বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতিকে আরও তীব্রতর করা হলো।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারের এহেন প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের মাধ্যমে তাকে হেনস্তার সব অপচেষ্টা রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আমি বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মুনির হোসেন, কাজী আবুল বাসার, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।