আর্জেন্টিনার সামনে ‘ডু অর ডাই

../news_img/56149mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::’কুইটোর অলিম্পিক অ্যাতাহালপা স্টেডিয়ামের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নয় হাজার ফুট ওপরে। বিশ্বের অন্যতম উঁচু এ স্টেডিয়ামই হতে পারে আর্জেন্টিনার অতলে তলিয়ে যাওয়ার মঞ্চ। হতে পারে উল্টোটাও। সুতোয় ঝুলছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য। বাংলাদেশের হাজারো আর্জেন্টিনা ফুটবল সমর্থকের মুখ ভার। একই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান চলছে। কিন্তু খেলা তো ইকুয়েডরের মাঠে।

আগামীকাল বুধবার (১১ অক্টোবর) সকালে এই মাঠের একটা জয় আর্জেন্টিনাকে এনে দিতে 'আকাশ-উচ্চতা'র আনন্দ। আকাশ-পাতালের এমন বিপরীতধর্মী প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে লিওনেল মেসিরা নামছেন ইকুয়েডরের বিপক্ষে। ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে আর্জেন্টিনাকে আজ জিততেই হবে।

নূন্যতম সম্ভাবনা টিকে আছে ড্র বা হারেও, তবে তাকিয়ে থাকতে হবে তখন অন্যদের দিকে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের দশটি দেশই বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর সাড়ে ৫টায় নামছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে।

২০০১ সালে ব্রাজিল দল বলিভিয়ার হাতে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। কারণ, খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে, ৩ হাজার ৬৩৭ মিটার উচ্চতায়। ৬ অক্টোবর বলিভিয়ার বিপক্ষে বাছাইপর্বের গোলশূন্য ম্যাচকে ‌‌‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমার।

শুধু আর্জেন্টিনা নয়, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ঝুলে আছে চিলি, কলম্বিয়া, পেরু, আর প্যারাগুয়ের ভাগ্যও। এ পাঁচটি দলই আছে শেষ চারে জায়গা পাওয়া-না পাওয়ার মাঝখানে। এই পাঁচ দলের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের মূল নজর থাকছে আর্জেন্টিনার দিকেই।

আলবিসেলেস্তেরা কেবল দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, গতবারের রানার্সআপও। এমন এক দলের বিশ্বকাপ খেলতে না পারা শুধু একটি দেশের দর্শক বনে যাওয়া নয়, বিশ্ব-আসরের রঙও খানিকটা ফিকে হয়ে যাওয়া। দুই বছর আগে শুরু হওয়া বাছাইয়ে এ পর্যন্ত হয়েছে ১৭ ম্যাচ।

ব্রাজিল এরই মধ্যে ৩৮ পয়েন্ট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা জোগাড় করতে পেরেছে মোটে ২৫ পয়েন্ট, টেবিলে অবস্থান ৬ নম্বরে। লাতিন থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে চারটি দল। পঞ্চম দলটি সুযোগ পাবে প্লে-অফ খেলার। অন্তত পাঁচের মধ্যে ঢুকতে হলে মেসিদের তাই শেষ ম্যাচে জয় দরকার ভীষণভাবে।

এমন একটা ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের চেয়ে প্রতিপক্ষের মাঠ নিয়েই বেশি চিন্তা আর্জেন্টিনার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু স্থানে খেলাটা সব সময়ই কষ্টকর। আর্জেন্টিনার যিনি মূল ভরসা, মেসির জন্য সমস্যাটা আরও বেশি। এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্টেডিয়াম বলিভিয়ার লা পাজে খেলতে গিয়েছিলেন মেসি। ঠিকমতো খেলবেন কি, উল্টো অক্সিজেনশূন্যতায় বমি হয়েছিল তার।

লা পাজের চেয়ে চার হাজার ফুট নিচে আছে কুইটো। সমস্যা অত তীব্র না হওয়ার কথা। আর কুইটোর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে রোববারই ইকুয়েডরে পৌঁছে গেছেন মেসিরা। আবহাওয়াকে জয় করা গেলেও মূল চ্যালেঞ্জ হবে মাঠের খেলায়। বাছাইপর্বের প্রথম লেগের খেলায় বুয়েনাস আয়ার্সে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা-ইকুয়েডর।

নিজেদের মাঠে সে ম্যাচটি জিততে পারেননি ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা, ড্র হয়েছিল ১-১-এ। এবার কুইটোতেও যদি ড্র হয়, তাহলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্জেন্টিনার জন্য অনুকূল ব্যাপার হচ্ছে, পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা কলম্বিয়া-পেরু নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি। এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকা কলম্বিয়া যদি ম্যাচটি জিতে যায়, তাহলে ড্রয়ের পরও সম্ভাবনা থাকবে।

আর্জেন্টিনাকে তাকিয়ে থাকতে হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের দিকেও। সচরাচর ব্রাজিলের পরাজয় চাইলেও এবার কামনা করতে হবে চিলির বিপক্ষে নেইমারদের জয়। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্যারাগুয়ে-ভেনিজুয়েলা ম্যাচে প্যারাগুয়ের পয়েন্ট খোয়ানোও। তবে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকার সুযোগও নেই, সবার ম্যাচই একই সময়ে। আর্জেন্টিনাকে করতে হবে নিজের কাজটাই। হারাতে হবে ইকুয়েডরকে। স্রেফ একটা জয়ই মেসিদের তুলে দিতে পারে প্লে-অফ, সেরা চার এমনকি দ্বিতীয় স্থানেওঙ্ঘ

পয়েন্ট তালিকা:

ক্রম দল পয়েন্ট গোল ব্যবধান
০১ ব্রাজিল ৩৮ ২৭
০২ উরুগুয়ে ২৮ ১০
০৩ চিলি ২৬ ২
০৪ কলম্বিয়া ২৬ ২
০৫ পেরু ২৫ ১
০৬ আর্জেন্টিনা ২৫ ১
০৭ প্যারাগুয়ে ২৪ -৫
০৮ ইকুয়েডর ২০ -১
০৯ বলিভিয়া ১৪ -২০
১০ ভেনিজুয়েলা ৯ -১৭

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে প্রথম চারটি দল। পঞ্চম দলটি প্লে-অফ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।