১৬ বছরে প্রথম গর্ভধারণ: উইমেন্স মেডিকেলে এসে স্বপ্নভঙ্গ!

../news_img/56176mmm.jpeg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জের বসন্তপুর গ্রামের আফসার আলী ও জাহেদা বেগম দম্পতি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের কোল জুড়ে আসবে সন্তান এমনই ছিলো প্রত্যাশা। সন্তানের আশায় সিলেট-ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য ঘুরে বেরিয়েছেন এই দম্পতি। অবশেষে সম্প্রতি জাহেদার গর্ভে আসে সন্তান। দীর্ঘদিন পরম মমতায় গর্ভে ধারণ শেষে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর আশায় তারা নিয়ে আসেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু গত শুক্রবার রাতে সেই স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়। এই দম্পতি জানতে পারেন তাদের অনাগত শিশুটি বেঁচে নেই।

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানায়- অনাগত সেই শিশুটি নাকি ভর্তির আগেই পেটে মারা গেছে। আর অন্যদিকে সন্তানের আশায় কাতর হয়ে অপেক্ষায় থাকা বাবা আফসার আলী ও তাঁর স্বজনদের দাবি তাদের সন্তান ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। সেদিন অপারেশন থিয়েটারে থাকা চিকিৎসক ও দায়িত্বরতদের ত্রæটির কারণেই তাদের অনাগত ছেলে শিশুটি দুনিয়ার আলো দেখতে পারেনি।

আফসর আলীর ছোটভাই মাহমুদ আলী জানান- তার ভাবী জাহেদা বিবাহিত জীবনে প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছিলেন তিনি মা হচ্ছেন। মা হওয়ার সেই স্বপ্ন বুকে লালন করে গত শুক্রবার বিকালে জাহেদা এসে ভর্তি হন সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলা এলাকার সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন তারা শিশুটির সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন।’

তিনি বলেন- ‘সেদিন দিনগত রাত ৮টা ২০ মিনিটে ওই রোগীকে হাসপাতালের সার্জারী রুমে প্রবেশ করানো হয়। পরে রাত ১০ টার দিকে বাইরে অপেক্ষারত আফসর আলী ও তাঁর স্বজনদের জানানো হয় মায়ের গর্ভেই শিশুটি (ছেলে) মারা গেছে।’

এতে বাইরে থাকা রোগীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বপ্নের এমন অপমৃত্যু তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাদের দাবি উইমেন্স মেডিকেল কলেজে ভুল চিকিৎসার কারণেই তাদের শিশুটির পৃথিবীতে আসতে পারলো না। বিষয়টি সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে।

মাহমুদ আলী আরো বলেন- ‘মেডিকেল কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা বলেছেন তারা এমন ঘটনায় খুবই মর্মাহত। তারা আমাদের নিয়ে বসার কথা রয়েছে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি। পুলিশ সদস্যরা মেডিকেলে গিয়ে ঘটনাটি দেখে এসেছেন। তবে আমরা এখনো কোন লিখিত অভিযোগ দেইনি। তাদের সাথে বসার পর যদি সন্তোষজনক সমাধান না পাই তবে আমরা আইনী পদক্ষেপ নিবো। আমরা এখনো শিশু হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

তিনি বলেন- ‘আমাদের পরিবারের অনাগত শিশুটির মৃত্যুর জন্য উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ভুল চিকিৎসাই দায়ী। ভুল চিকিৎসা দিয়ে তারা এখন উল্টো কথা বলছে। কিন্তু এখন বলছে তারা শিশুটি আগেই মারা গেছে। অথচ ভর্তির আগ পর্যন্ত আমরা শিশুটির সাড়াশব্দ শুনতে পেয়েছি। এছাড়া শিশুটি যখন আগেই মারা গিয়ে থাকলে আমাদের কেনো মেডিকেলে ভর্তি করা হলো?’ কেনো আমাদের রোগীকে সার্জারীতে নেয়া হলো। শিশুটির শরীর দেখলেই বোঝা যায় সার্জারির সময় তার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির শরীরের কাটাছেড়ার দাগ রয়েছে।’

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন- ‘উইমেন্স মেডিকেলে জগন্নাথপুরের আফসর আলীর স্ত্রীর গর্ভের একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে শিশুটি মায়ের গর্ভেই মারা গেছে। আর আফসর আলী ও তার পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’

এদিকে ওসি গৌছুল হোসেন জানান- ‘এ ঘটনায় তারা কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। আফসার আলীর স্বজনদের সাথে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আপোষের কথা শোনা যাচ্ছে। তাই হয়তো তারা কোন অভিযোগ দেননি।’

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কলেজের পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন- ‘আফসর আলীর স্বজনরা যে অভিযোগ করছেন সেটি সত্য নয়। শিশুটি মেডিকেলে আনার ৩/৪ দিন আগেই মারা গেছে। অপারেশনের সময় শিশুটির মৃত্যু হয়নি।’

কিন্তু শিশুর স্বজনরা দাবি করছেন শিশুটি অপারেশনের সময় মারা গেছে- এমন দাবির বিষয়ে বশির উদ্দিনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোনে কোন তথ্য দিতে চাননি।