মেসির কারিশমায় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা

../news_img/55028 mrin k.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: হ্যাটট্রিক করে বাঁচামরার ম্যাচে জ্বলে উঠলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। নিজের কারিশমায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়া দলকে এগিয়ে নিলেন।  আর্জেন্টিনা সরাসরি উঠে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপে।

ম্যাচ দেখে যারা প্রথমে  শঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছিলেন, মেসির  জাদুর ছোঁয়ায় ১২ মিনিটেই বদলে গেলো দৃশ্যপট। অবশেষে সেই জাদুকর করলেন বিরল এক হ্যাটট্রিক। তার হ্যাটট্রিকেই শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা।

এদিকে, গ্যাব্রিয়েল জেসুসের জোড়া গোলে চিলিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একের পর এক হোঁচটে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে পেরুর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে যায় মেসি বাহিনী।

ড্র করলেও হয়তো বাদ পড়ে যেতে হবে, জিতলেও সরাসরি নিশ্চিত নয় বিশ্বকাপ। এমন কঠিন সমীকরণ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। ছিল ইকুয়েডরের পর্বতচূড়ায় খেলার কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। যেখানে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ জয় ছিল ১৬ বছর আগে। পুরো পর্বতমালা আর্জেন্টিনার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে ম্যাচের মাত্র ৪০ সেকেন্ডে গোল করল ইকুয়েডর! আর্জেন্টিনা তখন ১৯৭০ বিশ্বকাপের পর প্রথম বাছাই পর্বে ছিটকে যাওয়ার ফাঁদে।

এই অবস্থায় দ্রুত গোল না পেলে মানসিকভাবেই ভেঙে পড়ত আর্জেন্টিনা। বলের অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ইকুয়েডর পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকবার ত্রাসও ছড়াল।

১২ মিনিটে জন্ম নিল  জাদুকরী প্রথম মুহূর্তটি। ড্রিবল করে বল বাড়ালেন বাঁ প্রান্তে থাকে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া দিকে। দারুণ বোঝাপড়ায় ওয়ান-টু। ডি মারিয়ার বাড়িয়ে দেয়া বলে বক্সের ভেতর থেকে সেই চেনা বাঁ পায়ের শট। উদ্যাপন করার সময় অতটা নেই। বল নিজেই জাল থেকে কুড়িয়ে বসালেন সেন্টারে।

২০ মিনিটে এবার মেসির একার জাদু। ইকুয়েডর ডিফেন্ডারের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের বা প্রান্তে ঢুকে জোরালো কিন্তু মাপা শটে ক্রসবারের নিচ দিয়ে পাঠালেন জালে। ২-১!

এগিয়ে থাকলেও স্বস্তিতে নেই আর্জেন্টিনা। অন্তত ২ গোলের লিড তো চাই। সেটাও এনেই দিয়েছিলেন প্রায়। ৩২ মিনিটে দুর্দান্ত থ্রু বল। ডি মারিয়া রক্ষণের ফাঁদ গলে বেরিয়েও গেলেন। সামনে কেবল গোলরক্ষক। কিন্তু বলটা চিপ করতে পারলেন না ডি মারিয়া।

প্রথমার্ধ সেখানেই শেষ। কিন্তু পর্বতচূড়ার অক্সিজেনের ঘাটতি ৬০ মিনিটের ক্লান্তি এনে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইকুয়েডর আরও গোছাল আক্রমণ শুরু করল। ২-২ ড্র হলেও বিপদে পড়বে আর্জেন্টিনা। এবার ৬২ মিনিটে বক্সের মাথায় বল পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বল ভাসালেন হাওয়ায়। বোকা বনে গেলেন লাইন থেকে বেশ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপ্রস্তুত গোলরক্ষক। হ্যাটট্রিক! বার্সেলোনার জার্সিতে ৩৯টি হ্যাটট্রিক করেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতেও চারটি। কিন্তু ক্যারিয়ারের ৪৪ তম হ্যাটট্রিকটি মেসি কখনোই  ভুলবেন না।

পুরোপুরি মেসিময় করে তুললেন ম্যাচটা। আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন অসম্ভব, অবিশ্বাস্য এক জয় হলো আর্জেন্টিনার।