জানেন, হানিমুনকে কেন হানিমুন বলা হয়?

../news_img/56226mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক : বাংলায় বলা হয় মধুচন্দ্রিমা, আর ইংরেজিতে হানিমুন। যে নামই বলা হোক না কেন আমরা সবাই খুব সহজেই বিষয়টা বুঝি। সাধারণত বিয়ের পর নবদম্পতিরা একান্তে কিছুটা সময় কাটাতেই এই রীতির প্রচলন। শোনা যায় হানিমুনের উদ্ভাবক নাকি জার্মানরা৷

The Shorter Oxford Dictionary অনুযায়ী honeymoon এর অর্থ ছিল ‘the first month after marriage’. কিন্তু হানিমুনের বর্তমান অর্থ হচ্ছে holiday spent together by a newly married couple, before settling down to a home.

আবার শোনা যায়, ‘হানিমুন’ শব্দের উৎস ব্যাবিলন৷ প্রাচীন ব্যাবিলনে বিয়ের পরে মেয়ের বাবা জামাইকে তাঁর চাহিদামতো মধু দিয়ে তৈরি মদ উপহার দিতেন। এই থেকেই কথাটি এসেছে ‘হানি’৷ ব্যাবিলনের ক্যালেন্ডার ছিল চান্দ্র। সেখান থেকে এসেছে মুন। শুরুতে নাকি ব্যাবিলনে বিয়ের পরের মাসকে হানি মান্থ বলা হত। সেখান থেকে শব্দটি পরিবর্তিত হতে হতে শেষে হানিমুন হয়, যা প্রচলিত এবং জনপ্রিয় রীতি হিসেবেই গৃহীত৷

আবার অন্য একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিয়ের পরে টানা একমাস একপাত্র করে মধু দিয়ে তৈরি মদ খেতে হত নবদম্পতিকে। মধু দিয়ে তৈরি মদ খাওয়ার প্রথা সেই হুন রাজা অ্যাটিলার সময় থেকে চালু ছিল, যার থেকেই এসেছে হানিমুন শব্দটি।

আবার অনেকে মনে করেন, ‘মুন’ শব্দটির সঙ্গে ঋতুচক্রের যোগ রয়েছে। যার সঙ্গে আবার শারিরীক চাহিদাও জড়িয়ে৷ এর সঙ্গে হানি বা মধু জুড়ে দেওয়া হয়েছিল এটা বোঝাতে যে, বিয়ের পর কিন্তু একইরকম সুখ নাও পাওয়া যেতে পারে৷

বেশিরভাগ হানিমুন নবদম্পতিরা যেখানে বিয়ের পর দুজনে কোথাও ঘুরতে যায়, সবসময় কিন্তু এমনটা ছিল না৷ ১৯শতকে ব্রিটেনে নবদম্পতিরা বিয়ের পর ব্রাইডাল ট্যুরে যেতেন৷ এই ট্যুরে নবদম্পতিরা সেইসব আত্মীয় এবং বন্ধুদের বাড়ি যেতেন, যারা তাদের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি৷

বিয়ের পরে বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গে কীভাবে ‘হানি’ এবং ‘মুন’ জুড়ে গেল, ইতিহাস ঘেঁটে তার মোটামুটি এমনটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তবে হানিমুনের বাংলা কবে মধুচন্দ্রিমা হলো, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।