সাত দিন হাঁটলেন অন্তঃসত্ত্বা রোহিঙ্গা

../news_img/56416mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক:: লাঠি ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হাসিনা বেগম। টানা সাত দিন ধরে হেঁটেছেন তিনি। পা ফুলে ঢোল হয়ে গেছে; বলছিলেন এভাবে তিনি আর পারছেন না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে আছেন। আরও আটটি সন্তান রয়েছে তার সঙ্গে; রয়েছেন স্বামীও। হাসিনা বেগম বলেন, ‘কাজ করতে পারি না; কিছু করতে পারি না; তাই ঘরবাড়ি ফেলে রেখে এসেছি।’

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কি কোনো নির্যাতন করেছে জানতে চাইলে তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘না। তবে সেনাবাহিনী বা স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদের কোনো কাজ দিচ্ছে না আর।’ তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রি। সেনাবাহিনী কিংবা বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানেই একমাত্র তার কাজ 

করার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুই মাস ধরে কোনো কাজ পাননি তার স্বামী। ফলে খাদ্য সংকটে পড়তে হয়েছে তাদের। ১০ জনের সংসার; অনাগত একজন পেটে, কিন্তু রোজগার নেই। তিনি বলেন, ‘খাদ্য যখন নেই, আমরা সেখানে কী করে থাকব? তাই নিরুপায় হয়ে পালিয়ে এসেছি।’ হাসিনা বেগমের মতো হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ সোমবার থেকে অপেক্ষা করছেন পালংখালির আনজুমপাড়া সীমান্তের বাংলাদেশ অংশের শূন্যরেখা বরাবর। তাদের সেখান থেকে আর এগোতে দিচ্ছে না বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি। বলা হচ্ছে, যাচাই-বাছাই হবে তাদের এবং তারপর রোহিঙ্গা শিবিরগুলো থেকে সেনাবাহিনীর নির্দেশনা এলেই তাদের এগোতে দেয়া হবে। তাই খোলা আকাশের নিচে ধান ক্ষেতের পাশে রয়েছেন তারা। রোদে পুড়ছেন, বৃষ্টিতে ভিজছেন; অনাহারে-অর্ধাহারে থাকছেন। প্রাথমিক হিসাব বলছে, তাদের সংখ্যা হবে ১৫ হাজার। তারা জানাচ্ছেন, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের শূন্যরেখায় রয়েছেন আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন।

সূত্র : বিবিসি