রাস্তায় সন্তান প্রসব দুঃখজনক

../news_img/56425mmm.jpg


মৃদুভাষণ ডেস্ক::তীব্র প্রবস বেদনা নিয়ে রাতের বেলা সরকারি তিন হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। তবুও, বাঁচানো যায়নি সন্তানকে। মাত্র ১৫০০ টাকার জন্য এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে একটা সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এটা মেনে নেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে রুল জারিকালে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, ‌‘আমরা খুবই মর্মাহত। তিনটি হাসপাতাল ঘুরে পারভীন আক্তার প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা পেল না। মাত্র ১৫০০ টাকার জন্য রাস্তায় তাকে সন্তান প্রসব করতে হলো। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে সেই নবজাতকও মারা গেল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটা সভ্য দেশে এটা অত্যন্ত গর্হিত, নিন্দনীয় অপরাধ।’

আদালত আরও বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা পারভীন আক্তার গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজারের পাশেই থাকতেন। গর্ভে সন্তান রেখে স্বামী তাকে ছেড়ে গেছে অনেক আগেই।’

তিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পারভীন নামের এক নারীর রাস্তায় সন্তান প্রসব ও নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে এই ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও আজিমপুর মাতৃসদনের সুপারিনটেনডেন্টকে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘তিন হাসপাতাল ঘুরে খোলা স্থানে সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড়’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তঃসত্ত্বা পারভীন আক্তার গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজারের পাশে থাকতেন। স্বামী তাকে ছেড়ে গেছে অনেক আগে। অযত্ন-অবহেলায় পারভীন আক্তারের গর্ভের সন্তানের নানা ত্রুটি দেখা দেয়। সোমবার রাতে তার প্রসব বেদনা ওঠে।

সোহেল নামে পরিচিত একজন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগ থেকে টিকিট নিয়ে ডাক্তার দেখান। সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢামেক হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, তার গর্ভের সন্তানের অবস্থা ভালো নয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তির জন্য জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসারকে লেখেন।

সোহেল গণমাধ্যমকে জানান, এরই মধ্যে একজন জানান, রোগীর সিজার করতে হবে। বেশকিছু টাকা খরচ লাগবে। কিন্তু হাতে টাকা নেই শোনার পর তিনি পারভীন আক্তারকে নিয়ে দ্রুত অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে তাকে নিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে তার কাছে ১৫ শত টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেয়ায় সেখান থেকে পারভীন আক্তারকে অন্য কোথাও যেতে বলা হয়।

সোহেল নিরুপায় হয়ে পারভীন আক্তারকে নিয়ে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যান। সকাল ৮টার দিকে পারভীনকে আজিমপুর মাতৃসদনে নেওয়া হয়। সেখানে তার নামে কোনো কার্ড কিংবা রেজিস্ট্রেশন না থাকায় কর্তৃপক্ষ ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

বারবার অনুরোধের পর তাকে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে নিয়ে যান এক নারী চিকিৎসক। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের হয়ে যেতেই আয়া শাহিদা সেখানে যান। এ হাসপাতালে চিকিৎসা হবে না বলেই শাহিদা তাকে টেনে দোতলা থেকে নিচে নামান। পারভীন তখন ব্যথায় ছটফট করছিলেন। অন্য একটি হাসপাতালের ঠিকানা দিয়ে আয়া তাকে বের করে দেন।

ম্যাটারনিটি হাসপাতাল থেকে বের হতেই প্রসব বেদনায় রাস্তার ওপর বসে পড়েন পারভীন। সেখানেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। প্রথমে নড়াচড়া করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই নবজাতক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে মারা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দেয় উত্তেজনা। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পথচারী ও এলাকাবাসী। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর নবজাতককে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।