বাড়িতে টাকা পাঠানো হলো না বাহরাইনে আতিবুরের

../news_img/Barlekha Pic-20.10.jpg

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য প্রায় নয় মাস আগে বাহরাইনে গিয়েছিলেন আতিবুর রহমান (৪০)। কিন্তু সচ্ছলতা আনার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না আতিবুরের। এর আগেই গত বুধবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় বাহরাইনের এক শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বেতনের টাকা তুলেই বাড়িতে পাঠানোর জন্য তিনি বের হয়েছিলেন।

আতিবুর রহমান মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোলসা গ্রামের মৃত মকবুল আলীর ৪র্থ ছেলে। তিনি ২ কন্যা সন্তানের জনক।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আতিবুরের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবারকে শান্তনা দেবার জন্য এলাকার লোকজন ভিড় করছেন বাড়িতে। স্ত্রী-সন্তানদের শান্তনা দেবার চেষ্টা করছেন তাঁরা। আতিবুরের বড় মেয়ে সানজিদা রহমানের বয়স ১২ ও ছোট মেয়ে ওয়াহিদা রহমানের বয়স ৪। সানজিদা রহমান ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

সরেজমিনে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোলসা গ্রামের মৃত মকবুল আলীর ৪র্থ ছেলে আতিবুর রহমান গত প্রায় ৯ মাস আগে বাহরাইনে গিয়েছিলেন। এর ৪ বছর আগে তিনি দুবাইতে ছিলেন। সেখান থেকে ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে আসেন। দেশে তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। পরে আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য নিয়ে ফ্রি ভিসায় বাহরাইনে যান। গত বুধবার (১৮ অক্টোবর) বাহরাইনের সময় সন্ধ্যায় বেতনের টাকা তুলে বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য বের হন। পাঁয়ে হেটে রাস্তা পারাপারের জন্য তখন সিগন্যাল বন্ধ ছিলো। সিগন্যাল বন্ধ থাকায় তিনি রাস্তা পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দ্রুত গতির একটি গাড়ি সিগন্যাল অমান্য করে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্থানীয় পুলিশ গাড়িটিকে আটক করে। নিহতের লাশ বাহরাইনের একটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত আতিবুরের ভাতিজা জুনেদ আহমদ বলেন, ‘চাচা ফ্রি ভিসায় গিয়েছিলেন। আত্মীয় স্বজনের সাহায্যে অনেক কষ্ট করে উনাকে বাহরাইনে পাঠানো হয়। গত এক দেড়মাস আগে কিছুটা সচ্ছল হয়েছিলেন। বেতনের ৩০ হাজার টাকা তুলে বাড়িতে পাঠানোর জন্য রওনা হয়েছিলেন। টাকা আর ছাড়া হয়নি চাচার। যে শার্ট পরে বাহরাইনে গিয়েছিলেন সে শার্ট পরা অবস্থায় চাচার মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বাহরাইনে আমার ইউনিয়নের যুবকের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তাঁর বাড়ি পশ্চিম ঘোলসা গ্রামে। বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিবো।