তিন যুগেও এতো ইলিশ দেখিনি

../news_img/56576mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর উপজেলার সদর মাছ বাজারে ইলিশ কেনা বেচায় ধুম পড়েছে। চিরচেনা ডালায় ইলিশের পসরা প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ বাজার।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মাছের ডালায় শোভা পাচ্ছে নানা সাইজের রুপালি ইলিশ। শুধু বাজারে নয়, ইলিশ বিক্রি হচ্ছে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন খেয়া ঘাট এলাকায়ও। এমনকি স্থানীয় পাড়া মহল্লায় বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ছে খুচরা ইলিশ বিক্রেতা।

শুধু ইলিশ নয় এই বছর পদ্মা নদীতে ৫ কেজি হতে সর্বোচ্চ ২৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। ২২ দিন অপেক্ষার পর পাঙ্গাস, বাঘাইর ও মাছের রাজা ইলিশ কিনতে বাজারে ইলিশ প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ৭০০ গ্রাম হতে প্রায় ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০/৫০০ টাকায়।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের মৎস্যজীবী মনিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি এই ৩৮ বছর সময়ে এত ইলিশ চোখে দেখিনি বলেও মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, `২২ দিন মাছ মারি নাই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্ট করেছি। এখন মাছ ধরায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই আজ প্রচুর মাছ পাইছি।`

এবার বেশী ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলেরা বলেন, সরকার ইলিশের প্রজনন সময়ে মাছ ধরার যে নিষেধাক্কা করেছিলো এটিই সবচেয়ে কাজে দিয়েছে। যার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি।

বাঘাইর ও পাঙ্গাস হবার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, এবার পদ্মা নদীতে পানি ছিলো অনেক, পানির গভীরতার জন্য এসব মাছ এই অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে এসেছে তাই এসব মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে পাওয়া যাচ্ছে। রাত-দিন কর্ডের ফাঁস জাল দিয়ে এসব মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন জানান।

জেলে মনিরুল ইসলাম জানান, এবার প্রতিজন জেলে ২মন হতে আড়াই মন পর্যন্ত মাছ শিকার করছে। পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ ৫ কেজি হতে ২৫ কেছি ওজনের ধরতে পেরেছে।

এদিকে মাছের প্রচুর আমদানিতে বরফ মিলগুলো বরফ সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বরফের অভাবে অনেক জেলে সংরক্ষণ না রেখে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জায়গায় কল করে মাছ বিক্রি করছে। তারপর সেই মাছ বাড়ীতেও পৌছে যাচ্ছে।

গোদাগাড়ী সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামসুল করিম বলেন, ১ অক্টোবর হতে ২২ অক্টোবর মা ইলিশ ধরার যে নিষেধাজ্ঞা ছিলো তা অনেকটাই কাজে দিয়েছে। তাতে গোদাগাড়ীর পদ্মার বুকে এতো ইলিশ মাঝের আর্বিরভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নদীতে কোন নিষেধাক্কা না থাকাই জেলেরা ইচ্ছে মতো মাছ ধরতে পারছে। আর দেশের দক্ষিণ অঞ্চল হতে ইলিশ মাছ এদিকে আসে সেই দিকেও কোস্ট গার্ড হতে শুরু করে প্রশাসন নিষিদ্ধ সময়ে মাছ না ধরতে দেওয়ার কারনে এত বেশী ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোদাগাড়ীর রেলবাজার হতে সুতানগঞ্জ পর্যন্ত মাটিতে কঙ্গর জাতীয় খাবারের প্রাচুর্যতা থাকাই এসব মাঝের দেখা মিলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ বলেন, এ বছর মা-ইলিশ রক্ষায় নদীতে অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেলেদের জেল-জরিমানা করার পাশাপাশি কারেন্টজাল পুড়িয়ে ফেলায় অবৈধ মৎস্য শিকারিরা খুব বেশি সুবিধা করতে পারে নাই। দুদিন হলো নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে, তবে কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।