মিরাবাজারের নিখোঁজ বাপ্পীর সন্ধান মিলেছে; রহস্য

../news_img/56682mmm.jpeg


মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রায় ৪ মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বাপ্পী (২৬) ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বাপ্পীর পরিবারের সদস্যরা খবর পান তিনি ঢাকাতে আছেন। পরে ঢাকার টঙ্গি এলাকাতে বসবাসরত তার মামা ফজলুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তার সাথে যোগাযোগ করেন। রাতেই বাপ্পীকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন মামা। পরে শুক্রবার সকালে তারা সিলেট পৌঁছান।

উদ্ধারের পর যুবক বাপ্পীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সূত্র ও বাপ্পীর বাবা বদর উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কে বা কারা ঢাকার পূর্বাচল সিটি সংলগ্ন একটি রাস্তায় ফেলে যায় বাপ্পীকে। পরে তিনি সেখানকার এক গাড়ি চালকের ফোন থেকে সিলেটের তার পরিবারকে বিষয়টি অবগত করেন। সিলেট থেকে এ খবরটি ঢাকার টঙ্গিতে বসবাসরত বাপ্পীর মামা ফজলুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়। পরে টঙ্গি থেকে ফজলুর রহমান পূর্বাচল এলাকায় গিয়ে বাপ্পীর সাথে দেখা করেন। পরে বাপ্পীকে নিয়ে সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন ফজলুর রহমান। শুক্রবার সকালের দিকে তারা সিলেট এসে পৌঁছেন। সিলেট পৌঁছুলে বাপ্পীকে নিয়ে তার সাথে মামা ও সিলেটে অপেক্ষারত স্বজনরা সরাসরি সিলেট কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যান।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে পিতার হেফাজতে দেয়া হয়। এখন তিনি মিরাবাজারের বাসাতেই অবস্থান করছেন। বাপ্পী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ থাকায় শুক্রবার রাতে তাকে নগরীর সোবহানিঘাটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন- ‘ঘটনাটি রহস্যজনক। নিখোঁজ থাকা যুবক আসাদুজ্জামান বাপ্পী দাবি করছে কেউ তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাকে সত্যি সত্যি অপহরণ করা হয়েছে কিনা সেটি তদন্ত পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা খুব গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখছি।’

তবে এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানাতে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করা হয়নি। বাপ্পীর পরিবারের কোন সদস্যের লিখিত অভিযোগ পেলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নিবে বলে জানান ওসি গৌছুল হোসেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়েছিলেন শহরতলির আসাদুজ্জামান বাপ্পী। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত  সেলফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বাপ্পী জকিগঞ্জ উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকার মো. বদর উদ্দীনের বড় ছেলে ও করিম উল্লাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী। তারা মিরাবাজারের খারপাড়াতে ভাড়া বাসায় বসবাসরত রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা সিলেট জেলা শাখার সাবেক সদস্য ও জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বও পালন করছেন বাপ্পী। গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৬৩৬) করেছিলেন পিতা বদর উদ্দীন। ছেলেকে ফিরে পেতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন তিনি।

কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে সে ব্যাপারে কোন তথ্য জানাতে পারেনি বাপ্পী। তার বরাত দিয়ে বাপ্পীর পরিবারের সদস্যরা জানান- ‘অপহরণকারীরা তাকে সুরমা গেইট থেকে অস্ত্রের ভয়ে অপহরণ করে। চোখ-মুখ, হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসে করে ঢাকাতে নিয়ে যায় তারা। এতোদিন ধরে একটি কক্ষে চোখ ও হাত বেঁধে আটকে রাখা হয় তাকে। সেই কক্ষের ভিতরইে তাকে খাবার দিতো তারা। একদিনও সেই কক্ষ থেকে তাকে বের করা হয়নি। তাদের কাউকেই সে চিনতে পারেনি। উদ্ধারের পর বাপ্পীকে মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল।  সে এলোমেলো কথাবার্তা বলছিলো। শুক্রবার রাতে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। চিকিৎসক তাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।’

বাপ্পীর পিতা বদর উদ্দীন বলেন- ‘আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কারোর প্রতি কোন অভিযোগ নাই। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সাংবাদিক মহলের প্রতি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সিলেট কোতোয়ালি পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ আর চেষ্টায়  আমি আমার ছেলেকে দীর্ঘদিন পরে ফিরে পেয়েছি। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। তাই ছেলে ফিরে আসার পরপরই থানাতে নিয়ে গেছি।’