মোহনগঞ্জে শ্বাসরোধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

../news_img/56766 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চায়না সূত্রধর (২১) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ  মঙ্গলবার সকালে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর দৌলতপুর এলাকার রাউৎপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
এ ঘটনায় পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধূ চায়না সূত্রধরের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
 
মোহনগঞ্জ হাসপাতালে নিহত গৃহবধূর বাবা অমৃত লাল সূত্রধর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, "আমার মেয়ের স্বামী দুলাল সূত্রধরের (৩০) সঙ্গে তার মামি রাধা রানি সূত্রধরের (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেম চলছে। এতে বাধা দেওয়ার জের ধরেই তারা আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এখন তারা বলছে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। "
 
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর দৌলতপুর এলাকার রাউৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত রতন সূত্রধরের ছেলে দুলাল সূত্রধরের সঙ্গে বিয়ে হয় পাশের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিপুর ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা অমৃত লাল সূত্রধরের মেয়ে চায়না সূত্রধরের। এদিকে, পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই মহল্লায় বসবাস করে আসছেন নিহত গৃহবধূর স্বামী দুলাল সূত্রধরের মামা বিমল সুত্রধর।
 
কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই বিমল সূত্রধরের স্ত্রী রাধা রানি সূত্রধরের সঙ্গে গোপনে তার ভাগ্নে দুলাল সূত্রধরের গভীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুলাল সূত্রধর চায়নাকে বিয়ে করার পরও তার মামি রাধা রানির সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কটি চালিয়েই যান তিনি। একপর্যায়ে তার স্বামীর সঙ্গে মামির গড়ে ওঠা অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি গৃহবধূ চায়নার চোখে পড়লে তিনি তার স্বামীকে বাধা দেন। এতে তার স্বামী দুলাল সূত্রধর গৃহবধূ চায়নার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
 
গতকাল সোমবার রাতে চায়না ও তার স্বামী দুলাল সূত্রধর রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ বিছানাতেই গৃহবধূ চায়নাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এ সময় নিহত গৃহবধূর স্বামী দুলাল সূত্রধরকেও ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় চায়নাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চায়নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
নিহতের পায়ে ও গলায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুবীর সরকার জানান।
 
মোহনগঞ্জ থানার ওসি আনসারী জিন্নাৎ আলী বলেন, "নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "