ভৈরব রেল সেতু ও খুলনা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের উদ্বোধন

../news_img/46929mri nui.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস রেল সেতু, খুলনা-কলকাতা রেল সার্ভিস ও মৈত্রী এক্সপ্রেসের ননস্টপ সার্ভিস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হন। এ সময় সংযুক্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

এসময় ভৈরবে রেলসেতুর নিচে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেল সেতু উদ্বোধনের সময় ভৈরব থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। কলকাতা রেল স্টেশনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ছিলেন ভারতীয় রেলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা হয় দিল্লি থেকে।

দিল্লিতে মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর ঢাকায় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন শেষে দুই দেশের নেতৃবৃন্দ বলেন, এ প্রকল্পগুলো দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাবে।

ভবিষ্যতেও দুই দেশ এক হয়ে উন্নয়নের পথে হাঁটবে বলেও শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত ভৈরব রেল সেতুটি চালু হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের জন্য ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর একনেকের বৈঠকে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এর পর ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চুক্তিবদ্ধ হয় ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন-এফকন। একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর শুরু হয় প্রকল্পের কাজ।

৯৮৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

৩ বছরমেয়াদি এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৪ বছরের মাথায় শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

সেতুর ১২টি পিলারের মধ্যে ৮টি মেঘনা নদীতে পড়েছে। ভৈরব ও আশুগঞ্জ সীমানায় রয়েছে আরও ৪টি পিলার।

ইতোমধ্যে সেতুতে স্লিপার, রেললাইন নির্মাণ ও পাথর বসিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়েছে।

সেতুটি চালু হওয়ার আগে মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু থাকায় ভৈরব অথবা পার্শ্ববর্তী তালশহর স্টেশনে ট্রেন দাঁড় করিয়ে ক্রসিং দিতে হতো।

দ্বিতীয় ভৈরব রেলওয়ে সেতুটি চালু হওয়াতে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হল।

দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতুর প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) আব্দুল হাই জানান, ইতোমধ্যে এ সেতুতে ট্রেন চালানো হয়েছে।

সেতুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে যাত্রার সময় অনেকটা কমে আসবে বলেও জানান তিনি।