পরীক্ষা পেছাতে স্কুল ছাত্রকে খুন করলো কলেজছাত্র

../news_img/46942mri nui.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::দিল্লি লাগোয়া গুরগাঁওয়ের এক স্কুল ছাত্রকে খুন করার অভিযোগে ওই স্কুলেরই একাদশ শ্রেনীর ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই।

গত সেপ্টেম্বর মাসে স্কুলের বাথরুমেই খুন হয় সাত বছর বয়সী প্রদ্যুম্ন ঠাকুর। সিবিআই জানতে পেরেছে যে পরীক্ষায় যাতে বসতে না হয় সেজন্যই বড়সড় গোলমাল পাকিয়ে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই কাউকে একটা খুন করার পরিকল্পনা করেছিল গ্রেফতার হওয়া একাদশ শ্রেণীর ছাত্রটি।

ঘটনাচক্রে মৃত শিশুটি সেই সময়ে বাথরুমে গিয়েছিল। প্রথমে অবশ্য ওই খুনের অভিযোগে স্কুল বাসের এক কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ ।

সিবিআই জানিয়েছে যে, তারা গুরগাঁওয়ের রায়ান ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র প্রদ্যুম্ন ঠাকুরের হত্যা মামলায় ওই স্কুলেরই এক সিনিয়র ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। ওই ছাত্রটির বয়স ১৬, তাই তাকে শিশু-কিশোর বিচার বোর্ডে হাজির করা হয়েছে।

বিচার বোর্ডে ছাত্রটিকে গ্রেফতার করার কারণ হিসাবে সিবিআই যে নোট জমা দিয়েছে, তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে পরীক্ষা আর অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক বানচাল করার উদ্দেশ্য ছিল গ্রেফতারকৃত ছাত্রের। পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা ছাত্রটি ভেবেছিল যদি স্কুলের কেউ খুন হয়, তাহলে নিশ্চই একটা বড়ধরণের গোলমাল পাকবে আর স্কুল ছুটি হয়ে যাবে। প্রদ্যুম্নকেই যে খুন করবে, এমন কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তার ছিল না।

গ্রেফতারকৃত ছাত্রের স্কুলের একতলার বাথরুমে ঘটনাচক্রে গিয়েছিল প্রদ্যুম্ন। খুন করার জন্য আগে থেকেই একটা ছুরি কিনেছিল সে। সিবিআই জানিয়েছে নিজের বাবার সামনেই ওই ছাত্র স্বীকার করে নিয়েছে খুনের ঘটনা। তবে ছাত্রটির বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তাকে চাপ দিয়ে ছেলের দেওয়া বয়ানে সই করানো হয়েছে।

নিহত শিশুটির পরিবারের দাবিতেই তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারকৃত ছাত্রটির পরিচয় গোপন রাখার কারণে তার বাবার পরিচয়ও সংবাদমাধ্যমে গোপন রাখা হচ্ছে।

তবে ছাত্রটির বাবা বলেন, ‌‘তার ছেলে কখনই খুন করে নি। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ছাত্রটির মৃতদেহ দেখে আমার ছেলেই প্রথমে মালি, তারপরে শিক্ষকদের খবর দেয় - সারাদিন স্কুলেই ছিল - পরীক্ষাও দিয়েছে। তার জামায় কোনও রক্তের দাগ ছিল না.. প্রথম থেকে তদন্তে সহযোগিতা করেছে সে।’

অভিযোগ করা হয়েছিল শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পরে গলা কেটে খুন করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনেও তাকে দিয়ে সেই খুনের কথা স্বীকার করানো হয়েছিল। তবে পরে কুমার নিজে এবং তার পরিবার বারে বারেই দাবি করে এসেছে তিনি নির্দোষ।অভিভাবকদের ব্যাপক বিক্ষোভের পরে তদন্তভার পুলিশের বদলে দেওয়া হয় সিবিআইকে। তারা দুমাস ধরে প্রায় দেড়শো ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক, কর্মচারীকে জেরা করেছে - ছাত্রছাত্রীদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেছে - সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে।

স্কুলেরই ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রটি গ্রেফতার হওয়ার পরে প্রদ্যুম্ন ঠাকুরের পরিবারের আইনজীবী সুশীল টেকরিওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রচুর তথ্য প্রমাণ যোগাড় করার পরেই রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একাদশ শ্রেণীর এই ছাত্রটিকে গ্রেপ্তার করেছে সি বি আই।আদালতের কাছে আবেদন করা হবে যাতে ছেলেটিকে শিশু-কিশোর হিসাবে নয় - প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর মতোই সাধারণ আদালতে বিচার করা হয় আর যাতে তার মৃত্যুদন্ড হয় - সেই দাবিও করা হবে আদালতে।’

সূত্র : বিবিসি