রোহিঙ্গা নিয়ে নজিরবিহীন সংকটে দেশ : প্রধানমন্ত্রী

../news_img/57074mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেয়া এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মতিনের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার পর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। দুই মাস সময়ের মধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে।’

তিনি বলেন, ‘এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হঠাৎ করে চলে আসায় স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার যে সমস্যা হয়েছে, সরকার তা নিরসন করে উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় জনগণকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

আগত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সফলভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। সমগ্র বিশ্ববাসী বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি বিশ্বের সকল দেশ বাংলাদেশকে প্রশংসা করছে এবং বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে সাগ্রহে সমর্থন জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, মিয়ানমারের নাগরিকরা যেন তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে তার জন্য সমগ্র বিশ্ববাসী আজকে তৎপর রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানও তৎপর রয়েছে।’

কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সদস্য আব্দুর রহমান বদির অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাদের আকস্মিক আগমনে পাহাড়ে গাছপালা নষ্ট হয়ে পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায়।’

কাজেই সরকার স্থানীয় এসব জনগণকেও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে এ সময় জানান তিনি।