সম্পদ ফেরত দিলেই মুক্তি পাচ্ছেন সৌদিতে আটক প্রিন্সরা

../news_img/57105 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  সৌদি আরবে সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী ধরপাকড়ে আটক হওয়া ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

কথিত দুর্নীতির অভিযোগে আটক রাজপরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ীদের তারা বলেছেন, সরকারকে নগদ অর্থ দিয়ে তারা মুক্তি পেতে পারেন।

আটক ব্যক্তিরা সরকারের এ প্রস্তাবে রাজি হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়বে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে কেউ কেউ এ প্রক্রিয়ায় মুক্তিও পেয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
 
দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে দেশজুড়ে সহস্রাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকিও আলোচনায় এসেছে।

সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার অঙ্কের অর্থ নিয়ে তদন্ত করছেন। সৌদি রাজপরিবার থেকে ২০১ জনকে আটকের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এরই মধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে প্রিন্স, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।

আটক ব্যক্তিদের তালিকায় রাজপরিবারের সদস্য এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী আল-ওয়ালিদ বিন তালাল এবং তার কন্যা প্রিন্সেস রিম বিন তালালের নামও রয়েছে।

অনেককেই রাখা হয়েছে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে। ব্যাপক মারধর ও নির্যাতনের ফলে অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগকে এখন অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ৭০ ভাগের কাছেই এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আটক কয়েকজন এ প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।

এরই মধ্যে যুবরাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ, যিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন, তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সুলতান বিন আবদুল আজিজেরও। তার ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের পথে যাদেরই অন্তরায় বলে মনে করছেন তাদেরই তিনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন বা সরিয়ে দিচ্ছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এখানে আরও স্বচ্ছতা বা স্বাধীনতার বুলি আওড়ানো অবান্তর।