নাগরিক সমাবেশ আজ দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

../news_img/57106 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় তা উদযাপন করতে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ভিন্ন আঙ্গিকের এ সমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন। আজ জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সমাবেশের আয়োজক নাগরিক কমিটি। বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনো গতানুতিক সমাবেশ হবে না। এর ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপ্তিতে থাকবে সংস্কৃতি-শিল্প আর রুচির ছাপ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, পরিচালনা করবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।

শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ শেষে কবি নির্মলেন্দু গুণ নিজের লেখা ‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি আবৃত্তি করবেন।এরপর বক্তব্য দেবেন বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার এতে বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিস কালদুল এবং ধন্যবাদমূলক বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বক্তব্যের ফাঁকে সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করবেন শাহীন সামাদ, রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করবেন সাজেদ আকবর। আর লালনের গান গাইবেন চন্দনা মজুমদার। এরই এক ফাঁকে দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এ সমাবেশ সফলে একাধিক বৈঠক করে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনও এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের দুই শাখাও সমাবেশ সফল করতে বর্ধিত সভাসহ প্রস্তুতি সভা করেছে।

নেতাকর্মীদের সমাবেশ সফল করতে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা বার্তাও দেয়া হয়েছে। প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও সমমনা সংগঠনগুলোও। একইভাবে পেশাজীবী সংগঠনগুলোও নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

অসাম্প্রদায়িক-উদার এবং গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেয়া হয়েছে বার্তা। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমাবেশে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় দু’জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজকের নাগরিক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ওপর আলোচনার পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতিগত ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেবেন তিনি।

এছাড়া আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে জাতির জন্য থাকবে উল্লেখযোগ্য বার্তা। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তার প্রত্যয় এদিন আবারও পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।

সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং নাগরিক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ শুধু বাঙালি জাতির নয়, এটা বিশ্ব দলিল। দেরিতে হলেও ইউনেস্কো এটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা এ ভাষণের মাহাত্ম্য সমাবেশে তুলে ধরব। সমাবেশে ইউনেস্কোর মহাসচিবের উদ্দেশে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠ করা হবে এবং পরবর্তীকালে এ পত্রটি তাকে পাঠানো হবে বলে জানান অধ্যাপক হারুন।

তিনি বলেন, এ সমাবেশে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, শিল্পী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের সমাবেশে যেমন আপামর জনসাধারণ এসেছিল, সেই ভাষণের স্বীকৃতি উদযাপনের সমাবেশেও এদেশের শান্তিপ্রিয়, উদারমনা, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক চেতনাধারী জনসাধারণ বিপুল পরিমাণে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর জরুরি বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী। ওই বৈঠক থেকে সাত দিনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে ৯ নভেম্বর সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হলেও পরে আওয়ামী লীগের দফতর থেকে জানানো হয়, ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এ সমাবেশ, আর তা আয়োজন করবে নাগরিক কমিটি।

পাল্টা সমাবেশ নয়- ওবায়দুল কাদের : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কিছু করে না।

তিনি বলেন, ‘এটা পাল্টা সমাবেশ না, এটা ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতির সেলিব্রেশন।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করি না। বিএনপি প্রয়োজন মনে করলে পাল্টাপাল্টি করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’

সমাবেশে জনসমাগমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ কেবল আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল না। তেমনি কালকের (আজকের) সমাবেশেও সবাই আসবে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সবাই আসবে।’

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নাগরিক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ প্রমুখ।