বালি ভ্রমণ -১

../news_img/57119 mmm.jpg

তবারক হোসেইন :: আমরা বালি যাবো, এমন চিন্তা কখনোই মাথায় আসেনি। ২২ আগস্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের ছুটি শুরু হবে, যখন এমন পরিস্থিতিতে কাজ গোছাচ্ছিলাম, সে সময় সম্ভবত ১৪/১৫ আগস্ট হবে বড়ছেলে শাওন আমার ফ্লাট থেকে তার বাসায় যাবার পথে তার স্ত্রী ঊর্মিকে জানালো, আম্মা তো রাজী। ঊর্মি এতে খুশী। আমাকে কেউ কিছু বললো না। আমি ও ব্যস্ততার কারণে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। পরদিন কোর্টে যাবার পথে বড় ছেলে এসে আমার কাছে দুজনের পাসপোর্ট চাইলো। আমি বললাম, কেন, জানালো বালিতে যাবো। আমি তখন বুঝলাম, আগের রাতের কথোপকথনের বিষয় বুঝে নিলাম। মা যখন রাজী, বাবার আর সম্মতির দরকার কি? কান টানলে মাথা তো আসবেই। যাক ২৮ আগস্ট রওয়ানা দিয়ে ২৯ তারিখ বালি সময় দুটোয় ডেনপাসার বিমান বন্দর থেকে হোটেলের গাড়ীতে উঠলাম। হোটেল হলো গ্র্যান্ড বালিসানি সুইটস হোটেল, সেমিয়ানাক। হোটেলে পৌছার পর সংক্ষিপ্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে কক্ষে পৌঁছানো গেলো। কক্ষটি তো কক্ষ নয় বিরাট হলরুম। বড়ো বড়ো দুটো খাট ছাড়া ও পশ্চিম দিকে কাপড় রাখার ওয়াডরোব, উত্তর দিকে বিরাট টেবিল তার পাশে চা কফি তৈরির ব্যবস্থা, কক্ষের মধ্যে মিনি বার এসব তো আছেই যা সব তারকা ধারী হোটেলে থাকে, তবে এর বৈশিষ্ট্য হলো সামনে একটি ব্যলকনি তাতে বসার ব্যবস্থা, বিপুল পরিসরের স্নানাগার আর বিশালত্ব। মুখ হাত ধুয়ে সংক্ষিপ্ত মধ্যহ্ণভোজ সেরে দিলাম। তারপর ঘুম। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে সবাই হোটেলটি ঘুরে দেখলাম আর পাশের সমুদ্র সৈকতে ঘোরাফেরা করে আশপাশ দেখার জন্য পায়ে হেটে অবশেষে একটি রেস্টুরেন্টে নৈশভোজ সেরে হোটেলে প্রত্যাবর্তন। বলে নিই, সব ব্যবস্থাপনা কিন্তু ছেলের। আমার ভূমিকা মেহমানের মতো। হোটেল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ৩০ আগস্ট একটি আগ্নেয়গিরি মাউন্ট বাঁটুর দেখা হবে এটা স্থির করে কক্ষে ফেরা।

বালিতে দ্বিতীয় দিন : ১ম পর্ব
আগের দিনের ব্যবস্থা মতো ৩০ শে আগস্ট আমাদের বিছানা ছাড়তে হলো সকাল ৭ টার মধ্যে। তারপর গোসল সেরে প্রাত:রাশ করার জন্য হোটেলের রেস্টুরেন্টে গেলাম। বিরাট রেস্টুরেন্টের চারিদিক খোলা। দোতালার উপর খাবারের আয়োজন। সামনেই সাঁতারের জন্য নির্ধারিত জলাশয় (সুইমিং পুল। সাঁতার-জলাধারের পরই বালি সাগর। নীচে বসে ও খাবার ব্যবস্থা আছে। তবে খাবার সংগ্রহ করতে হয় দোতলা থেকেই। আমরা প্রাত:রাশ শেষ করে ঘরে ফিরে তৈরী হয়ে বের হবো, তাই তাড়াতাড়ি করতে হলো। প্রকৃত পক্ষে এদিনই আমাদের বালি ভ্রমণ শুরু হবে। বালি ইন্দোনেশিয়ার ৩৪টি প্রদেশের একটি প্রদেশ। বালি প্রকৃত পক্ষে একটি দ্বীপ। তার পাশে ও কয়েকটি ছোট দ্বীপ আছে তা নিয়ে বালি প্রদেশ গঠিত। প্রদেশটির আয়তন ৫৭৮০ বর্গকিলোমিটার। প্রদেশটি ৮ টি রিজেন্সী ও একটি সিটি, এগুলো ছাড়া ও ৬৩৬টি গ্রাম্য সম্প্রদায় ও ৮০ টি সিটি সম্প্রদায় রয়েছে।

 

Island of gods, Island of peace, Morning of the world, Island of Hinduism I Island of loveইত্যাদি ডাকা হয়। বালিতে দেবতার মূর্তি দেখা যাবে সর্বত্র, মন্দিরে বাড়ীতে, দোকানে, সব ধরনের জন-সম্পৃক্ত স্থানে, এজন্য বুঝি এ নাম। এই দ্বীপ প্রদেশের জনসংখ্যার ৮৩.৫% হলো হিন্দু, ১৩.৫ % মুসলিম, ২.৫ % খ্রিষ্টান ও .৫% ভাগ বৌদ্ধ। এ সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে খুব সম্প্রীতি বিদ্যমান। ফলে বালির জনমনে শান্তি বিরাজিত। এসব কারণেই এ দ্বীপটিকে আকর্ষণীয় বিশেষণে অভিহিত করা হয়। বালির একদিকে ভারত সাগর আর অপর দিকে বালি সমুদ্র। মাঝখানে এ দ্বীপ। এ দ্বীপে রয়েছে দুটো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। একটি হলো মাউন্ট আগুনঙ্গ, অন্যটি মাউন্ট বাঁটুর। আমাদের আজ মাউন্ট বাঁটুর দেখার কথা। যা কালই শাওন ঠি ক করে রেখেছে। আমরা তৈরী হয়ে দশটার সময় লবিতে গেলাম। অভ্যর্থনা টেবিলের তরুণীরা আমাদের বাহনের চালকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। চালক হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার নাম জানালো ইয়ুদা বা যোদ্ধা। এক হারা চেহারার চালকটি কিন্তু বেশ ভালো ইংরেজী বলে।গাড়ীটি ও নতুন। গাড়ীতে উঠলাম, রাস্তায় বেরিয়ে খাবার জন্য পানি বিস্কুট নিয়ে যখন রওয়ানা দিলাম তখন চালক বললেন আমাদের বাঁটুর যাওয়ার পথে একটি বাটিক তৈরির কারখানা দেখাতে চান, আমরা সানন্দে রাজী হলাম। বুঝলাম চালকটি শুধু চালক নন বরং তিনি আমাদের দর্শনীয় স্থানের একজন গাইডের কাজ দেবেন।

আমাদের নিয়ে আসা হলো বাটিক কারখানায়, যেটির নাম বালি বিদাধারী বাটিক। তথাপি ডেনপাসার এলাকায় অবস্থিত কারখানায় পৌঁছে গেলাম স্বল্প সময়ের মধ্যে। দেখলাম বেশ কিছু কর্মী কাজ করছেন, কেউ ছবি আঁকছেন, কেউ রং করছেন, কেউ কাপড় তৈরী করছেন। ভেতরে ঢুকে দেখি বিরাট শোরুম। শুধু আমরা নই, আরও অনেক পর্যটক এসেছেন। সবাই কারখানা ঘুরে ফিরে দেখছেন, কেনা কাটা করছেন তার মাঝে আমরা ও ।- চলবে....