কিছু একটা হবেই, তবে হয়তো সেটা খুব ভালো হবে না : অপু বিশ্বাস

../news_img/57151mmm.jpg

লিমন আহমেদ : হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কলকাতায় গেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে যান তিনি। আঘাত পান কোমর ও শরীরে। সিজার করা স্থানে রক্তপাতও হয়েছে। বাধ্য হয়েই শুক্রবার সকালে কলকাতায় নিজের ব্যক্তিগত ডাক্তার দেখাতে ঢাকা ছাড়েন তিনি। সঙ্গে ছিলেন না কেউই। ছেলে আব্রাম খান জয়কে রেখে গেছেন বাড়িতেই।

ছেলেকে বাসায় একা রেখে গেছেন অপু এই খবর শুনে রেগে ছেলেকে নিজের কাছে আনতে ছুটে যান স্বামী শাকিব খান। সেখানে গিয়ে তিনি বাসা তালাবন্ধ পান। তাই দেখে নিকেতনের স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তিনি। এরপর শাকিবের বরাত দিয়ে প্রকাশ হয় বেশ কিছু সংবাদ। যেখানে দাবি করা হয় হয়েছে, ছেলেকে তালাবন্দী পেয়ে পুলিশে অভিযোগ করেছেন শাকিব খান। অপুর বিরুদ্ধে অসচেতন মাতৃত্বের অভিযোগও করেন তিনি। কিন্তু কলকাতা থেকে ম্যাসেঞ্জারে আলাপকালে এসব খবর ও শাকিবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অপু বিশ্বাস। লিখেছেন লিমন আহমেদ :-

কেমন আছেন এখন?
অপু বিশ্বাস : ডাক্তারের সঙ্গে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় দেখা করেছি। তিনি ওষুধ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে দুই থেকে তিনমাস বিশ্রামের কথা বলেছেন। শনিবার রাতেই আমি ঢাকা ফিরে যেতে পারবো। আর কোনো সমস্যা নেই।

অসুস্থ হয়ে একা একা এতদূর গেলেন। কলকাতায় কাউকে নিয়ে গেলেন না কেন?
অপু বিশ্বাস : কাকে নিয়ে যাবো। এমন দরদি আমার কই অসুস্থ হয়ে যার হাত ধরে চিকিৎসা নিতে আসবো? কলকাতায় আসার প্রয়োজন হলে আগে শাকিবের সঙ্গেই আসতাম। মাঝে মাকে নিয়ে এসেছি। এবার মা নিজেই অসুবিধায়, অসুস্থ। শাকিব দেশে আছে জানতামই না।

শুনেছিলাম সে ২০ তারিখের পর ফিরবে। আজ শুনলাম সে ঢাকায়। আমি এমনই স্ত্রী যার স্বামী কখন দেশে আসে কখন দেশ ছাড়ে কোনো খবরই পাই না। সেই দোষও কী আমার। মিডিয়ার অনেকেই তো অনেক খবর জানেন, সব জেনে শুনেও কেন এভাবে গায়ে পড়া তথ্য ছড়ান আমাকে দোষ দিয়ে।

কিন্তু ছেলেকে এভাবে একা ফেলে যাওয়া কী ঠিক হলো?
অপু বিশ্বাস : একা ফেলে আসবো কেন? আমি ছেলের মা, আমার চেয়ে বেশি দরদি কেউ নয় তার জন্য। মায়ের চেয়ে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা আর কে করে? আজ (শুক্রবার) কিছু নিউজ দেখলাম, মনে হলো মায়ের চেয়ে মাসীদের দরদ বেশ দেখছি। সবাই মুখে মুখে মায়াকান্না করে বেড়াচ্ছেন কেন আমি ছেলেকে রেখে একা আসলাম। কিন্তু উত্তরটা কেউ দিচ্ছেন না যে কেন আসলাম? আমার কী কেউ নেই? স্বামী আছে, শ্বশুরবাড়ি আছে।

কেন আমাকে একা আসতে হলো? আমার সঙ্গে কেউ থাকলে তো ছেলেকে সঙ্গে আনা যেতই। কাউকে যখন পেলাম না বাধ্য হয়েই ছেলেকে রেখে আসলাম। আর ঠান্ডাজনিত অসুখে জয়ও কয়দিন ধরে ভুগেছে। তাই একা একা জার্নির ভেতর ওকে এনে কষ্ট দিতে চাইনি। জয়কে আমি একা রেখে আসিনি। বাসায় তিনজন কাজের মেয়ে আছে। আমার বোন শেলী আপুকে রেখে এসেছি।

বাসার ম্যানেজার, দারোয়ান ও আমার গাড়ির ড্রাইভারকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে এসছি যাতে কোনো সমস্যা না হয়। একটু পর পর আমি বাসায় কল দিচ্ছি, খোঁজ নিচ্ছি। আমার সংসার, আমার চেয়ে নিশ্চয় অন্য কেউ বেশি সিরিয়াস হবে না? এছাড়া আর কার কাছে রাখতে পারতাম। কার কাছে রেখে আসলে শাকিব খুশি হতেন?

এমন আস্থাভাজন কেউ তো নেই যার কাছে আমার ছেলেকে একটা দিনের জন্য রেখে আমি চিকিৎসা নিতে আসবো। শাকিবের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। ওর বাবা-মায়ের হয়তো ইচ্ছে করে না তাদের একমাত্র নাতিকে দেখতে। আমি কী করতে পারি? ওরা যদি দায়িত্বটা নিতেন তবে আমাকে টেনশন করতে হতো না। এইসব মুখরোচক কাহিনিও ছড়াতো না। তারা কী শুনেনি কিছুদিন আগে আমার ছেলে অসুস্থ ছিলো? কেউ তো আসেনি? শাকিব কী শুনেনি? ও সব খবর পায়, ছেলে-বউ অসুস্থ থাকলে সেই খবর পায় না কেন? ও তো ছেলে অসুস্থ থাকলে ছুটে আসেনি। সবকিছু আমাকেই সামলাতে হয়।

 তাতে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি ধরেই নিয়েছি আমার স্বামী ছাড়া কেউ নেই। স্বামী ব্যস্ত থাকে তাই আমাকে এক হাতেই সংসার-সন্তান সামলাতে হবে। তবে কেন লোক হাসানো হচ্ছে এসব স্বস্তা সেন্টিমেন্ট ছড়িয়ে আমি বুঝি না। এই দেশে অনেক মা আছেন যারা সন্তানকে বাসায় রেখে সারাদিন অফিস করে বেড়ান। তাদের নিয়ে কী কেউ নিউজ ছাপায়? তাদের স্বামীরা কী এমন করে?

শাকিব তো ছেলে বাসায় একা আছেন শুনে ছুটে গেছেন, গিয়ে তালাবন্ধ দেখে ফিরে এসেছেন। ছেলেকে দেখতে যাওয়া তো বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব। ঘরে তালা মারা কেন?
অপু বিশ্বাস : অবশ্যই। তার এই দায়িত্ব সচেতনতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। সে যদি সবসময় এমন দায়িত্ব সচেতন হতো আমার কোনো দু:খই থাকতো না। সব স্ত্রীরাই চায় তাদের স্বামীরা দায়িত্ববান হবে। কিন্তু আমি কলকাতায় এসেছি সেই খবর দুপুরেই সবাই জেনেছে। শাকিব তো আমার খোঁজ নেয়নি যে কতটুকু আঘাত পেলাম, ডাক্তার দেখিয়েছি কী না, ডাক্তার কী বললো? ও যখন আনতে গেল সেই রাত সাড়ে ৯টায় তো ছেলে ঘুমিয়েই থাকে। তখন তো তার কাউকে প্রয়োজন পড়ে না। তবুও ধরে নিলাম কোনো কারণে খবর পেতে দেরি করেছে, বা যেতে পারেনি তাই রাতেই ছুটে গেছে।

ভালো কথা, কিন্তু এতো নাটকের কিছু ছিলো না। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে গেলেই হতো। সঙ্গে সাংবাদিক, পুলিশসহ দলবল নিয়ে কেন? বাবা যাবে ছেলের কাছে এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে। সে রাতে বাসায় গিয়ে থাকুক। বাসা তো আমার একা নয় কিংবা সে ওই বাসাতে নিষিদ্ধও নয়। তবে ছেলেক নিয়ে আসতে হবে কেন? ছেলেকে নিয়ে ও কার কাছে রাখবে? বাচ্চা ছেলেকে একজন পুরুষ সামলাতে অনেক কষ্ট। সেটা কী ও পারতো। আমার ছেলেকে আমি সবরকমভাবেই নিরাপদ করে রেখে এসেছি। তাকে কেন আমি অনিশ্চিয়তার মধ্যে পাঠাবো।

তাই বলে বাসায় তালা দিয়ে রাখবেন। এটা তো ভালো দেখায় না। যে কোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটতে পারে না?
অপু বিশ্বাস : বাসা খোলাই ছিলো। একটা চাবি আমার সঙ্গে এনেছি। আরেকটা চাবি রেখে এসছি আমার বোনের কাছে। সন্ধ্যার পর শেলী আপাই তালা মেরে আসেন। আমি ছাড়া আর কাউকে যেন চাবি না দেয়া হয় সেটা আগে থেকে বলা ছিলো। শাকিব বাসায় যাবেন সেটা তো আর আমি জানতাম না।

কারণ ও সাধারণত আসে না বাসায়। তবুও বাসায় গিয়ে যখন এমন পরিস্থিতি দেখেছেন তখন কেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি শাকিব। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই পারতেন। শাকিব তার সন্তানের বাবা, সন্তানকে দেখার অধিকার তার আছে। এতে দোষের কিছু নেই। সবাই একতরফাভাবে শাকিবের বলা কথার সঙ্গে রঙ মিশিয়ে খবর প্রকাশ করেছেন। ‘ছেলে তালাবান্দী’- এটা কোনো শব্দ হতে পারে যাছাই বাছাই না করে? আমি চিকিৎসা না করিয়ে বাসায় পড়ে থাকলেই বুঝি সবাই খুশি হতেন।

চিকিৎসা তো দেশেও করানো যেত? এভাবে একা একা ছেলেকে রেখে বিদেশে না গেলে হতো না?
অপু বিশ্বাস : কলকাতায় আমার পারিবারিক ডাক্তার রয়েছেন। যে কোনো সমস্যায় তার কাছেই আসি। বাচ্চা হবার পর প্রতি মাসে চেকাপের জন্য কলকাতায় আসি আমি। আর যেহেতু সমস্যাটা মেয়েলি ছিলো আমি চেয়েছি গোপনে চিকিৎসা করিয়ে চলে যাবো। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য নেই। আর আমি তো বলেছি, ছেলেকে আমি একা রেখে আসিনি। তার সব নিরাপত্তা, প্রয়োজনের ব্যবস্থা করেই এসেছি। ছোট্ট বিষয়টিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বিশাল করে তোলা হলো কেবল আমাকে ছোট করতেই। কারণ আমি মা, আমার আবেগকে ছোট করলে আলোচনা পাওয়া যাবে।

ডাক্তার আপনাকে দুই মাস বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। সেক্ষেত্রে আপনার নতুন দুটি ছবির কী হবে?
অপু বিশ্বাস : কিছু একটা তো হবেই, তবে হয়তো সেটা খুব একটা ভালো হবে না। আমি দেশে এসে ছবিগুলোর প্রযোজক ও পরিচালকের সঙ্গে কথা বলবো। হালকা কিছু কাজ করা গেলেও শুটিং করাটা ঝুঁকিপূর্ণই হবে। দোয়া করবেন যেন দ্রুত সুস্থ হই।