ডিভোর্স ঠেকাতে তুলে নেয়া হয় রাবিছাত্রীকে, আটক ৩

../news_img/57125 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের ছাত্রীকে তুলে নিয়েছিলেন তার স্বামী। স্ত্রীকে জোরপূর্বক ডিভোর্স প্রত্যাহার করানোর জন্য তাকে ঢাকায় কাজী অফিসেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
 
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে উদ্ধারের পর ওই ছাত্রী ও তার গ্রেফতারকৃত স্বামী সোহেল রানাকে শনিবার রাতে রাজশাহীতে আনা হয়। ছাত্রীকে রাজশাহীর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।
 
তিনি আরও জানান, ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- ওই ছাত্রীর সাবেক স্বামী সোহেল রানা, সোহেলের বাবা জয়নাল আবেদীন এবং মাইক্রোবাসচালক জাহিদুল ইসলাম।
 
পুলিশ কমিশনার জানান, এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। কিছু দিন আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেন ওই ছাত্রী। ডিভোর্স অফিসিয়ালি কার্যকর হওয়ার আগে বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্ত্রীকে শুক্রবার ক্যাম্পাস থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান সোহেল রানা।

মাহাবুবুর রহমান জানান, উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য নগর পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করেছে। পুলিশ সদর দফতরের সহায়তায় মতিহার থানা পুলিশ ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শেখেরটেক রায়েরবাজার এলাকার একটি কাজী অফিস থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তার সাবেক স্বামী সোহেলকেও আটক করা হয়।
 
এদিকে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, মামলায় গ্রেফতারকৃতদের রোববার সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
 
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়েছিলেন। হলের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তার সাবেক স্বামী সোহেল রানা।

সেখানে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান সোহেল ও তার সহযোগীরা। পরে ওই ছাত্রীর সন্ধান চেয়ে শুক্রবার বিকাল থেকে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
ওই দিন সন্ধ্যায় মতিহার থানায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানাসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। পরে রাতে ওই ছাত্রীর শ্বশুর জয়নাল আবেদীনকে নওগাঁর পত্নীতলা থেকে আটক করা হয়।