বালি ভ্রমনের দ্বিতীয় দিন

../news_img/57155 mmm.jpg

তবারক হোসেইন :: বাটিক কারখানা থেকে বেরিয়ে ঘণ্টা খানিক ড্রাইভের পর আমরা পৌঁছে গেলাম মাউন্ট বাতুরের কাছে। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট। রাস্তাটি বেশ উঁচু পাহাড়ের ওপর দিয়ে গেছে। তার পাশের রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু রেস্টুরেন্টটির সামনে গাড়ীটি থামানো হলো। আমরা নামলাম। রেস্টুরেন্টটির নামের সাথে জুড়ে দেওয়া আছে হালাল শব্দটি। নেমে দেখি এলাহীকান্ড। লোকে গিজগিজ করছে। রেষ্টুরেন্টির পাশে দাঁড়ানোর জায়গা আছে যেখান থেকে বাতুর আগ্নেয়গিরি স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। এই পাহাড়টি খাড়া নেমে গেছে, তারপর একটি স্থলভূমি তার ওপারে আগ্নেয়গিরি মাউন্ট বাতুর। এই আগ্নেয়গিরিটি জীবন্ত। চাইলেই দেখা যায় জ্বালামুখ। তার দিয়ে বের হওয়া লাভা বাতুর পাহাড়ের চারদিকে কালো রংয়ের লাভা ছড়িয়ে আছে পাথরের আঁকার ধারণ করে। বাতুর আগ্নেয়গিরির পাশেই বিরাট বাতুর জলাশয়

Luwak Cofeei তার তীর ধরেই আরেকটি দিগন্ত জোড়া পাহাড়। ওটা স্বাভাবিক পাহাড়। মাউন্ট বাতুরের সর্বশেষ বড় অগ্নুৎপাত হয়েছে ২০০০ সালে। এখনো কিছু কিছু লাভা বের হয়, তেমন মারাত্মক নয়। বড় অগ্নুৎপাতের ফলে মাউন্ট বাতুরের চারিদিকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে সবুজে বনাঞ্চল ও ঘাস কালো রং ধরে আছে। লাভা বের হয়ে কালো রঙের শিলা ছড়িয়ে আছে সর্বত্র।

আমরা অনেকক্ষণ আগ্নেয়গিরি দেখলাম, ছবি তুললাম, তারপর সেই রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজন হলো। ভোজনশেষে আমরা আবার গাড়ীতে উঠলাম। এবার শাওন গাড়ীর চালকের সাথে আলাপ করে জেনে নিলো, পাশেই আছে একটি গরম পানির ঝর্ণা। সেটা না দেখে কি আর ফেরা যায়, অগত্যা রওয়ানা হলাম। এবার শুরু চড়াই উৎরাই পার হওয়া। গাড়ী নিয়ে নামতে গিয়ে বুঝা গেলো আমরা অনেক উঁচু পাহাড়ে ছিলাম। নেমে নেমে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম বাতুর জলাশয়ের কাছে। সেখানে বাতুর জলাশয়ের ধারে দেখি অনেকগুলো সাঁতার-জলাধার। এগুলো হলো গরম পানির। বিস্ময়ের বিষয় হলো বাতুর জলাশয়ের পানি কিন্তু ঠাণ্ডা আর তার পাশের জলাধারগুলোর পানি বেশ গরম। আমরা যেহেতু যাবার সময় প্রাকৃতিক গরম পানির ঝরনায় যাবার প্রস্তুতি নিয়ে যাইনি, সেজন্য হাঁটু অবধি ভিজে গরম পানির স্বাদ নিলাম। দু নাতনীর জিলেট কাপড় থাকায় তারা স্নান করলো। তারপর ফিরে আসা। কিন্তু ফেরার পথে আরো কিছু দেখা হলো। সেটা পরে বলবো।  চলবে