কুমিল্লায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল সিলগালা

../news_img/57304mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ডাক্তারের ভুল অপারশনে মা ও তার নবজাতকের মৃত্যুর পর টনক নড়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) নিহত প্রসূতির মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ডা. এম শরীফ ও হাসপাতালের মালিক মারুফ আহাম্মদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমানের নির্দেশে অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা এবং বিনা লাইসেন্সে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে অবৈধভাবে পরিচালনা করা উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারটি। এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত ডাক্তার ও অন্যান্যরা।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা এবং ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এমও ডা. কামরুল হাসান।

এছাড়াও অবৈধভাবে চলা একই এলাকার মাতৃসেবা জেনারেল হসপিটাল সিলগালা করে বন্ধ করে দেয়াসহ উপজেলার অন্যান্য স্থানে আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়।

এর আগে বুধবার (২২ নভেম্বর) ভোরে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের ব্যবসায়ী উজ্জলের স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের (২২) প্রসবকালীন ব্যথা উঠলে তাকে রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু অপরারেশনের পর বাচ্চার অবস্থা আশংকাজনক বলে ডাক্তার শরীফ সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বারে নবজাতককে নিয়ে চিকিৎসা করতে বলেন। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনার পথে নবজাতকের মৃত্য হয়। পরে কিছুক্ষন পর সোনিয়ার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেয়ার পর তারও মৃত্যু হয়।

এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার উত্তেজিত লোকজন ওই হাসপাতালটি ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে অপারেশনকারী ডা. শরীফ, হাসপাতালের মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান জানান, আমরা পরে জানতে পেরেছি ডা. শরীফ ভারত থেকে ভূয়া ডিগ্রি এনে ডাক্তারি করছিল, এর আগেও তার হাতে ওই হাসপাতালে অরেক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে চেষ্টা তদবীর করে সে অবৈধভাবে ওই হাসপাতালে অপারেশন করে একের পর এক মানুষ হত্যা করে যাচ্ছিল।

সোনিয়ার স্বামী জানান, ডাক্তারের ভুল অপারেশনের কারণেই আমার ও নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, অনেক আগেই এ হাসপাতালটি বন্ধ করার দরকার ছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা সিভিল সার্জন জানান, এ ঘটনা তদন্ত করতে বুধবার বিকালেই চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় অবৈধভাবে চলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। রয়েল হাসপাতালটির অবৈধভাবে পরিচালনা করা এবং প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে তা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।