বালি ভ্রমণ ৪

../news_img/57292 mmm.jpg

তবারক হোসেইন :: আজ ১লা সেপ্টেম্বর।  আজ ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল আযহা। বালিতে মুসলমানের সংখ্যা কম। মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৩.৫ শতাংশ। তাই এখানে মসজিদের সংখ্যা ও কম। এখানকার মসজিদগুলো কিন্তু বালির ঐতিহ্যময় নির্মাণশৈলীর সাথে মিল রেখেই নির্মিত। ঈদের দিন মুসলিম নারী পুরুষ নির্বিশেষে মসজিদে নামাজ পড়েন। ঈদের নামাজে ও তারা এভাবে আসেন। সাধ্যমতো কোরবানি দেওয়া হয় আর কোরবানির মাংস বণ্টন করা হয় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিবেশীদের মাঝে। ‘নুসা দূয়া’ রিজেন্সীতে আছে ইবনে বতুতা মসজিদ বা মসজিদু ইবনু বতুতা যার পাশেই একটি হিন্দু মন্দির আর একটি খ্রিষ্টান গির্জা রয়েছে। এতে বালির পর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বোধের প্রমাণ মিলে। আমাদের গাড়ীর চালক আমাকে বললেন আমরা বালি বাসী অপর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনিই আমাকে মসজিদের পাশে মন্দির এ গির্জা থাকার বিষয়টি দেখিয়ে দিলেন। আমরা আজ ও তাই একটু দেরী করে বের হলাম। আজ আমাদের যাত্রা হবে বালি সাফারিতে। বালি সাফারী আমাদের হোটেল থেকে বেশ দূর, তাই আজ একটিই দর্শনীয় বিষয় রাখা হয়েছে। পৌঁছাতে পৌছাতে হয়ে গেলো দুপুর। সাফারিতে পৌঁছে টি কিট কেনা হল। সাফারির নাম হলো বালি সাফারী ও মেরিন পার্ক। ঢুকেই সেখানকার রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে উঠলাম বাসে। বলা প্রয়োজন অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে ভেতরে নিয়ে গেলো একটি বাস। বাসটি ভেতরের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে দিয়ে আসে। সেখান থেকে অল্প একটু হেটে যেতে সাফারির ভেতরের বাস স্টপেজে। ছোট ছোট বাস আসে দর্শনার্থীদের নিতে। বাসে থাকেন একজন ধারা ভাষ্যকার। রসালো ইংরেজি ভাষায় ধারা বর্ণনার সাথে প্রাণীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া তার রাজ। বাস থামিয়ে প্রাণীগুলোকে দেখতে হয়। প্রাণীগুলো কিন্তু নিজ নিজ এলাকায় মুক্ত আর আমরা দর্শনার্থীরা বাসের গ্লাস দিয়ে প্রাণীগুলো দেখছি। তারা বাসের বা বাসের মধ্যে অবস্থানকারীদের মোটেই তোয়াক্কা করে না। বাঘ বা সিংহ অথবা সাপ বা অন্য সরীসৃপ সবাই ওখানে নির্বিকার। বাসের এক চক্করের পর আমাদের ছেড়ে দেয়া হলো যেখান থেকে তোলা হয়েছিল সেখানে। এবার বন্য প্রাণীদের নিয়ে খেলা আর হাতির খেলা দেখার পালা।

দেখলাম কতো ধরনের প্রাণীকে কিভাবে পোষ মানানো হয়েছে তার নমুনা। ওরাং ওটাঙের মাধ্যমে শুরু। তারপর ঘোষকের ডাকের সাথে সাথে পাখী ও অন্য প্রাণী আসছে আর নিজ ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছে। রীতিমতো নাটকের মতো। তারপর দেখতে গেলাম হাতির খেলা দেখতে। যাবার পথে এক জায়গায় দেখা গেলো দুটো হাতি নিয়ে দাড়িয়ে আছেন একজন। পাশে একটি রাউন্ডার। ওখানে হাতির খাবার বিক্রয় করা হয়। উৎসাহী দর্শক খাবার কিনে হাতিকে খাওয়াতে পারেন। শামা বাবাকে খাবার কিনে দিতে বললো। শাওন মেয়ের বায়না মেটাতে খাবার কিনে দিলো। কিন্তু খাবার দিতে গিয়ে সে ঘাবড়ে গেলো। এদিকে ছোটটা বলে উঠলো আমাকে দাও, বাপ তার হাতে কিছু খাবার দিলে সে অকুতোভয়ে এগিয়ে গেলো। ছোটবোনের সাহসে শামা ও এগিয়ে এলো । দু বোন হাতি দুটোকে খাবার দিলো, আমরা উপভোগ করলাম তাদের আনন্দ। নির্দিষ্ট স্থানে আমরা হাতির খেলা দেখতে গেলাম। একটি জঙ্গলে একদল হাতি থাকে। কিন্তু জঙ্গল উজাড করতে সচেষ্ট একদল লোক। তারা জঙ্গল কেটে ঘর বানিয়ে ফেলে। একটি হাতি টের পেয়ে তাদের তাড়া করলে বন দস্যুরা তাকে গুলি করে। সে আহত হয়ে অন্য হাতি নিয়ে এসে এদের তাড়িয়ে দেয় নির্মিত ঘর ভেঙ্গে ফেলে। এটি অভিনয় করে দেখালো হাতির দল। তারপর ঘরে ফেরা। রাত প্রায় দশটা ।