কায়রো থেকে উখিয়া

../news_img/57314 mmm.jpg

বিশেষ প্রতিনিধি :: মায়ানমার থেকে প্রাণে বেঁচে আসা রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে কারও অজানা নয়। পৃথিবী দেখল, আধুনিক যুগের ব্যভিচার ও গণহত্যা।মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১৩ – ১৫ লক্ষ। যদিও গণনায় তার থেকে অনেক কম দেখানো হয়।টেকনাফের এক অংশ এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রায় পুরো অংশ জুড়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবাস। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ জন শরণার্থী এবং কখনও আবার একসাথে ১০০০-২০০০ জন একসাথে চলে আসে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হল এত শরণার্থীর আগমন সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকারের এবং সকল বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে আজও কোনও ধরণের মহামারি কিম্বা মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয় নি, যা সত্যিই এক বিস্ময়।

এমনই আর এক বিস্ময় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এস ও এস শিশু-পল্লীর সন্তান ডাঃ মোহাম্মাদ আরিফুল হক, যিনি ডাঃ আরিফ নামেই বেশি পরিচিত। তিনি কায়রো ইউনিভারসিটিতে অরথপেডিক সার্জারিতে মাস্টার্স করছেন। এক মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে গিয়ে পরিজন এবং বন্ধু – বান্ধব ছেড়ে মানবতার ডাকে সাঁরা দিয়ে নেমে পড়েন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা দিতে। যদিও এটি তার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে তিনি সিডর, আইলা এমনকি রানা প্লাজায় আটকে যাওয়া মানুষদের উদ্ধার এবং চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

ডাঃ আরিফের মানব সেবার পরিধি শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে নি।বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশের মাটিতেও।
তিনি মিশরে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের জন্য ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর অন্যতম উদ্যোক্তা। এমনকি পাকিস্তানের শিশু এবং মাতৃ মৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার এর উন্নয়নের জন্যও কাজ করেছেন।
তিনি বলেন এরকম অনেক জায়গা আছে যেখানে ছাতা মাথায় দিয়ে, কাঁদা মাড়িয়ে ৪০ মিনিট হেঁটে ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সেবা দিচ্ছেন।তিনি এক রুমে ছয় জনের এক জন হয়ে থেকে রোহিঙ্গাদের সেবা দিচ্ছেন।
হাসি মুখে তিনি বলেন তবুও কিছু মানুষ আমার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে এতেই আমি খুশি। তাছাড়া অনেকে আমার মত কষ্ট করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন ২৫ টির মতো রেজিস্টার্ড প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করছে। তবে এর মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১২ টি ক্যাম্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু তাদের ব্যানার লাগিয়ে রেখেছে কিন্তু কোন কাজ করছে না।অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি কাজ করার জন্য নিজ প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেন।

তার ভাষা মতে, রোহিঙ্গাদের মাঝে Diarrhoea, Skin diease, Asthma, Tuberculosis, Measles, Malnutrition, ARI, Common cold, Generalised weakness, Gastritis, Psychological disorders, Typhoid, UTI, Conjunctivitis, রোগই বেশি দেখাদিয়েছে।  তিনি মনে করেন আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে এ রোগগুলির প্রকোপ আরও বাড়বে।

রোহিঙ্গাদের মাঝে শিক্ষার হার নাই বললেই চলে। অন্যান্য সমস্যার মধ্যে বিশুদ্ধ পানির এবং স্যানিটারির কিছুটা সমস্যা আছে।  ডাঃআরিফ অতি দ্রুত রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান চান এবং তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি মনে করেন ধর্মের চেয়ে অনেক বড় মানুষ।  ডাঃআরিফ এস ও এস শিশুপল্লি থেকে বড় হয়েছেন তাই কৃতজ্ঞতা স্বারুপ তার এপ্রনে সবসময় SOS লেখা থাকে। তিনি মনে করেন “  চিকিৎসার মাধ্যমে শান্তি সম্ভব   এবং এ বার্তা পৃথিবীর সব ডাক্তারদের মাঝে ছরিয়ে দিতে চান। ডাঃ আরিফের মানুষের প্রতি মমতা এবং সেবার মানুষিকতা দেখে বলতেই হয় সাংবাদিক জাহিদুর রহমান ডাঃ আরিফকে সঠিক নামটিই দিয়েছেন। সত্যিই ‘ মানবতার ফেরিওয়ালা নামটি ডাঃ আরিফকেই মানায়।
আশা করি অনেক ডাক্তার তাকে আনুসরন করবেন এবং ডাক্তারদের সম্মান তার আগের উচ্চতায় ফিরিয়ে আনবেন।