দুগ্ধ খামার: বদলে দিয়েছে ভাগ্যের চাকা

../news_img/57402mmm.jpg



 এম শাহিন গোলদার::সাতক্ষীরা জেলার দুধের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৫৫টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। প্রতি মাসে এলাকার বাসিন্দাদের দুধের চাহিদা মিটিয়ে এক লাখ লিটারের বেশি দুধ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ংসহ সরাসরি খুলনা ও যশোরের ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা হয়।
 কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় লক্ষাধিক নারী-পুরুষ এ পেশা বেছে নিয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমে তাদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করেছেন তারা। সারা দেশে সরবরাহ হচ্ছে সাতক্ষীরার দুধ।

সাতক্ষীরা জেলা পশুসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন জেলাতে নতুন নতুন দুগ্ধ খামার গড়ে উঠছে। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৫৫টি দুগ্ধ খামার রয়েছে তবে বেসরকারি হিসেবে এর সংখ্যা ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার দুগ্ধ সমবায়ী ও খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে উন্নত জাতের গাভী রয়েছে প্রায় সাত থেকে আট হাজার এবং বছরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে।
 প্রতি মাসে এলাকার বাসিন্দাদের দুধের চাহিদা মিটিয়ে এক লাখ লিটারের বেশি দুধ মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ংসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সরাসরি খুলনা ও যশোরের ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা হয়। জেলার তালা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার জেয়ালা গ্রাম। এ গ্রামের ঘোষপাড়ায় ১৫০টি পরিবারে প্রায় এক হাজার লোকের বসবাস। মানুষের প্রধান কাজ কৃষি ও গরু পালন। এখানে রয়েছে ১৩৭টি দুগ্ধ খামার। খামারগুলোতে জার্সি, ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, হলেস্টাইনসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে জার্সি, ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল গরুর সংখ্যা বেশি।
এখানে যত গরিব পরিবারই থাকুক না কেন তাদের কমপক্ষে তিন থেকে চারটি গরু রয়েছে। আর অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের রয়েছে পাঁচ থেকে ৫০টি গরু। এমনও পরিবার আছে প্রতিদিন ৬ মণ দুধ বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে, যা সাতক্ষীরার বিনেরপোতা, খুলনায় ব্র্যাকের আড়ং, আঠারমাইল ও জাতপুরে প্রাণসহ বিভিন্ন কারখানায় বিক্রয় করা হয়।

তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের সুচিত্রা ডেইরি মালিক প্রশান্ত ঘোষ জানান, এসএসসি পাস করি ১৯৮১ সালে। এরপর চাকরির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে দুইটি বছর পার হয়ে যায়। পরে চাকরি না পেয়ে ১৯৮৩ সালে ৬ হাজার টাকা ধার করে একটি বিদেশি গাভী (বকনা) ক্রয় করি। এক বছর পরই তার গর্ভে একটি বাছুর জন্ম নেয়। এরপর বাড়তে শুরু করে গরুর সংখ্যা। এভাবে বাড়তে বাড়তে ‘সুচিত্রা ডেইরি’ নামে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলি একটি দুগ্ধ খামার। বর্তমানে খামারে রয়েছে ৫০টি গরু। এ খামারে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে।

 জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ বলেন, জেলাতে ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার দুগ্ধ সমবায়ী ও খামার গড়ে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণে দুধ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।