বালি ভ্রমণ ৫

../news_img/57338 mmm.jpg

তবারক হোসেইন  :: আজ ২রা সেপ্টেম্বর, দেশে ঈদুল আযহা। বালি আসার আগে বাড়ীতে ছোট ভাইকে টাকা দিয়ে গেছিলাম। কোরবানির পশু কিনে ছবি পাঠানো হয়েছে। আজ সেটাই কোরবানি দেয়া হবে। পরে সব কিছু ভালোমতো সমাপ্ত হওয়ার খবর ও পেয়েছি।
আজ আমাদের দর্শনীয় স্থান উবুদ রাজ প্রাসাদ তার পাশাপাশি একটি মন্দির ও বানর জংগল। আমরা রওনা দেবো ১১ টায় এমন কথা ছিল। কিন্তু আমাদের বাহন আসতে দেরী হলো। শেষ পর্যন্ত আমরা রওয়ানা হলাম প্রায় ১২ টায়। সরাসরি উবুদ যাবো।গাড়ীতে ওঠে সরাসরি উবুদ রওয়ানা। উবুদ বালির একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর যা আসলে বালির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এখানকার বাড়িঘর গুলোর ফটক গুলো কারুকার্যময়। বুঝাই যায়, এ অঞ্চলে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা বেশী হয়। তো আমরা রওয়ানা দেওয়ার পর দেখলাম আজ রাস্তায় প্রচুর যান। আসলে উবুদ এলাকায় প্রচুর পর্যটক আসেন। এখানকার রাজ প্রাসাদ, এলিফেন্ট ফরেস্ট, এলিফেন্ট কেভ, সরস্বতী মন্দির, বাতুয়ান মন্দির এসব সহ অনেক দর্শনীয় স্থান আর তার পাশে আছে সমুদ্রে সারফিং এর সুযোগ। তাই যানবাহনের সংখ্যা অনেক। তবে আমাদের ঢাকা শহরের মতো স্থবির হওয়া যানজট নেই। গাড়ী ট্রাফিক জংশনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য দাঁড়ানো ছাড়া চলতেই থাকে, তবে গতি হয়তো কম। উবুদে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে সব গুলো দেখা সম্ভব নয়। এলিফেন্ট ফরেস্ট ও কেভ দেখা বাদ দেওয়া হলো নাতনীদের কথা ভেবে। তারা ভয় পায়। তাই প্রথমে আমাদের লক্ষ্য উবুদ রাজ প্রাসাদ। উবুদ রাজপ্রাসাদ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়। এটি বালির স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। এটি নির্মাণে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন খ্যাতনামা স্থপতিরা। এই প্রাসাদে ৬০ টি কক্ষ আছে। এর দরোজা ও ফটকগুলোতে রয়েছে দৃষ্টি কাড়া বিভিন্ন রংয়ের কারুকাজ। এগুলো লিখা আছে পর্যটন বিভাগের প্রচার পত্রে।

আমাদের গাড়ী আস্তে আস্তে গিয়ে উবুদ প্রাসাদের সামনে থামলো। আমরা নেমে পড়লাম। প্রাসাদের ভেতরে ঢোকার পর আমরা খুব হতাশ হলাম, কারণ, নোটিশ ঝুলানো মেইনট্যনান্স কাজের জন্য প্রাসাদে প্রবেশ বন্ধ। অতএব হতাশ হলেও কি আর করা। বহিরাঙ্গনের কিছু ছবি নিয়ে বেরিয়ে পড়া। তবে প্রাসাদটির বহিরাঙ্গন দেখে বুঝলাম প্রচারপত্রের কথা সত্য। বহিরাঙ্গনে অনেক কারুকাজ করা স্থাপনা আছে, যা দেখে অনুমান করা যায় ভেতরের জৌলুশ কেমন হবে। আমাদের মতো অনেক পর্যটক হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন। ইতিমধ্যে মধ্যাহ্ন ভোজের সময় এসে পড়েছে। প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখা গেলো দুপাশে লাইনধরে রেস্তোরা। একটিতে ঢুকে খাবারের অর্ডার দিয়ে বসে পড়াহলো। দুপুরের খাবার শেষে আমাদের গন্তব্য বাতুয়ান মন্দির। যা আমাদের ফেরার পথেই। সময় সাশ্রয় করা ও এ মন্দির দেখার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
মন্দিরটি বাতুয়ান গ্রামে অবস্থিত। এটি ৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে গাড়ী পার্ক করার পর মন্দিরের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে যেতে হয়। সেখানে কর্মীরা সবাইকে পরিয়ে দিলেন তাদের ঐতিহ্যশালী কাপড়। এর আগে আমরা যখন উলুয়াতু মন্দিরে যাই সেখানে কেবল একটি কাপড়খন্ড কোমরে পরতে দেয়া হয়, আর শাওন যেহেতু ছিরি কোয়ার্টার প্যান্ট পড়েছিলো তাই তাকে দেওয়া হয় সেই কাপড়। এসব কাপড় পরে আমরা নির্দিষ্ট ফটক দিয়ে প্রবেশ করলাম ভেতরে। এ মন্দিরটির কলেবর অনেক বড়। মন্দিরটি ব্রহ্মার নামে নির্মিত। এটিতেও চারিদিকে কারুকার্য খচিত বিভিন্ন মূর্তি আছে আছে ফটকে কারুকাজ। মন্দিরটির তিনটি প্রাঙ্গণ। মন্দির প্রাঙ্গণ ঢোকার পর পরই ঘটে গেলো এক কাণ্ড। প্রথমে আমাদের ছোট নাতনী শ্রেয়া ও পরে শামা সহ দুজনকে সেলফি তোলার ধুম ফেললো কয়েকজন সুদর্শন তরুণী। তাদের ছবি তোলা শেষই হয়না। আমরা এক কোনে দাঁড়িয়ে। পরে এদের কয়েকজনের সাথে দু-নাতনীর ছবি তুললাম। ওরা এসেছে চীন থেকে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো চীনা পর্যটকরাই এখন বালির পর্যটকের সিংহভাগ জুড়ে অবস্থান করছে। মন্দিরটি দেখে আবার ফিরে যাবার পালা, দিন ও শেষ হয়ে এলো বলে। একটু কেনা কাটা করবে ঊর্মি। পৌঁছানো গেলো আগুঙ্গ বালি নামক একটি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে গিন্নিকে একটি কফি শপে বসিয়ে আমরা ঢুকলাম। কিছুক্ষণ দেখে আমি ও বেরিয়ে এলাম। কফি শপে আমরা কফি খেলাম। তারপর ওরা এলে হোটেলে।
কাল বালিতে আমাদের শেষ দিন। তাই গোছাতে হবে সব কিছু।

বালি ভ্রমণের শেষ দিন
৩ রা সেপ্টেম্বর। বালিতে আমাদের শেষ দিন। রাত সাড়ে আটটায় আমাদের বিমানযাত্রী হবে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে। তাই আমরা সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত হোটেলে থাকতে পারবো। তারপর যাত্রা করবো নুরারাই বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে। সেভাবেই গতরাত শাওন হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে ঠিক করে রেখেছে। যেহেতু যাত্রার দিন তাই কাছের একটি দর্শনীয় স্থান ঠিক করে রেখেছে। সেটি হলো টানাহ লট মন্দির। চালক বললো মাত্র ৪০ মিনিটের রাস্তা। তাই সকাল দশটায়ই আমরা রওয়ানা হলাম। আজ হোটেল থেকে যে রাস্তায় বের হলাম সেটি গ্রামের রাস্তা। দুদিকে ধানক্ষেত তার মাঝ দিয়ে গাড়ী এগিয়ে চললো। যেখানে যাবো সে গ্রামের নাম তেরাবান আর তা তেবানান রিজেন্সিতে অবস্থিত। আসলেই ৪০/৪৫ মিনিটে আমরা পৌঁছে গেলাম টানাহ লট মন্দিরে। নির্দিষ্ট গেটে আমাদের নামিয়ে দিলেন চালক। আমরা এগিয়ে চললাম, কিন্তু দেখি বিরাট বিপণি কেন্দ্রের মাঝ দিয়ে চলেছি। আসলে মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনে এই বিপণি কেন্দ্র। এসব অতিক্রম করে আমরা পৌঁছে গেলাম মন্দির এলাকায়। মন্দিরটি দুভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে কিছু স্থাপনা আছে কিন্তু এ অংশটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, মাঝখানে পানি তার পর আসল মন্দির। মাঝখানে পানি বেশী নয় তবে স্রোত আছে। কথিত আছে জাভা থেকে একজন ধর্মগুরু বালিতে এসেছিলেন ধর্ম প্রচারের জন্য। তিনি সাগরের পারে একটি প্রস্তর স্তূপ কেন্দ্রকরে বরুণ দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এ মন্দিরটি ১৪৮৯ সালে নির্মাণ করেন। এটি যেনও ভূখণ্ড থেকে বর্ধিত একটি অংশ। ফলে সবসময় সাগরের পানি মন্দিরটিকে আঘাত করতো। তিনি এলাকার মানুষের কাছে ধর্মপ্রচার করেন। এভাবেই মন্দিরটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমাগত ভাবে ঢেউয়ের তোড়ে মন্দিরটি ক্ষয় প্রাপ্ত হতে হতে ১৯৮০ সালে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। পরে সরকার মন্দিরটির সুরক্ষার জন্য সাগরের অংশের চারিদিকে প্রতিরক্ষা দেয়াল পাথর দিয়ে তৈরী করে দেন। ২০০৩ সালে মন্দিরটির উন্নয়নের আরো কাজ করা হয়। তৎকালিন রাষ্ট্রপতি মেঘবতী সুকর্ণপুত্রির নামে একটি ফলক উৎকার্ণ আছে। এখানে প্রথম চোখে পড়লো একটি একটি বোর্ড যেখানে ভূমিকম্প হলে কি করতে হবে তার সব কিছু বলা আছে। ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প প্রবণ দেশ তাই এ ধরনের নোটিস ।

যাক, মন্দিরটি দুভাগে ভাগ হওয়ার ফলে মন্দিরটির মাঝদিয়ে সাগরের পানি পথ করে নেয়। যার ফলে এক হাটুজল পার হয়ে মুল মন্দিরে যেতে হয়। আমরা এখানে এসে মুল ভূখন্ডের সাথে লাগানো অংশ দেখলাম। এ অংশে মন্দিরটির কিছু স্থাপনা ও অভ্যাগতদের বিশ্রাম করার একটি সুন্দর ভবন রয়েছে। গিন্নি খাড়া সিড়ি দিয়ে নেমে আবার পানি অতিক্রম করে মুল মন্দিরে যেতে পারবেন না, তাই তাকে অভ্যাগতদের ভবনে বসিয়ে রেখে আমি সবার সাথে নীচে নামলাম। কিন্তু স্রোতস্বী পানি পার হয়ে ওপারে যেতে পারবে না শ্রেয়া, তা ছাড়া এরকম শিশুদের ওপারে যাওয়া নিষেধ, তাই তাকে নিয়ে আমিও রয়ে গেলাম এপারে। তবে শ্রেয়ার উৎসাহে সমুদ্রের পানিতে পা ভেজাতে হলো।শাওন ঊর্মি ও শামা পানি পার হয়ে ওপারের মন্দিরে গেলো। তখন শত শত ভক্তের লাইন দেখা গেলো, তারা মন্দিরে যাচ্ছেন। একদল ভক্ত এসেছেন যাদের শরীরে ধ্ববল সাদা পোশাক। সংখ্যায় তারা কয়েক শ হবেন, সবাই একই পোশাকে এসেছেন। অবশেষে আমরা অভ্যাগতদের সাথে বসে থাকলাম শাওনরা ফিরে না আসা পর্যন্ত। তারা এলে আমরা হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা।

রাস্তায় কিছুদূর আসার পর দেখি এক বিশাল গাড়ীবহর এগিয়ে চলেছে। গাড়ীগুলো লতা পাতা ও অন্যান্য সাজানোর জিনিস দিয়ে সাজানো । গাড়ী বহরের সামনেই পুরোহিত একটি উঁচু ট্রাকের ওপর। সেখান থেকে তিনি পবিত্র পানি ছিটিয়ে চলেছেন। লোকজন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কোন উচ্ছ্বাস নেই এক নিরব পরিবেশ। সুদীর্ঘ গাড়ীবহর টি পুলিশী নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে কিন্তু সব কিছুতেই খুব পরিমিতিবোধ লক্ষ করা গেলো। বালিতে সেদিন ছিল আয়রন ফেষ্টিভ্যাল। আগের দিন চালক জানিয়ে দিয়েছিলেন যে রাতে উৎসব শুরু হবে। ধাতব বস্তু সমুহ যাতে ভালো থাকে সেজন্য এ দিন পুজো দেয়া হয়। আমাদের গাড়ীট ও সাজিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই উ্যৎসবের জন্যই এই গাড়ীর বহরে পথ পরিক্রমার আয়োজন। আমরা এসব দেখে ফিরে এলাম হোটেলে ১ টার মধ্যে। এখন শামা শ্রেয়ারা যাবে শেষবারের মতো সাঁতার- জলাধারে। পরে তারা ভর রোদে সৈকতে ও সাঁতার কেটেছে।

এবার দেশে ফেরার পালা
যেভাবে ঠিক করা হয়েছিল সেভাবেই শামা-শ্রেয়াদের সাঁতার ও সমুদ্র স্নান শেষে আমরা সবাই মিলে মধ্যাহ্ন ভোজ করতে গেলাম হোটেলের রেস্তোরায়। এই প্রথম আমরা হোটেলে মধ্যাহ্ন ভোজন সারলাম। এর আগে শুধুমাত্র প্রাত:রাশ সম্পন্ন হতো। কারণ দিনটাতো আমরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে কাটিয়েছি। যেহেতু বেশ সময় আছে তাই আয়েশ করে ভোজন সারা হলো। ঘরে ফেরে কিঞ্চিৎ বিশ্রামের ও সুযোগ মিললো। লটবহর আগেই গোছানো হলো। সাড়ে পাঁচটার সময় উঠে বিমান যাত্রার জন্য কাপড় পরে নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি শেষে ঠি ক ৫.৫৫ মিনিটে কক্ষ ছেড়ে দিলাম। বেলবয় মালামাল লবিতে এনে রাখলো। গাড়ী ঠি ক সময়ে এলো। মালামাল ভরে রওয়ানা হলাম। অভ্যর্থনা ডেস্কের সুন্দরী ললনারা আমাদের হাসিমাখা মুখেই বিদায় দিল। তাদের বিদায় দিয়ে গাড়ীতে ওঠা হলো। বিমানবন্দর যেতে আধ ঘন্টার বেশী লাগবেনা এটা জানা ছিলো। তাই সঠিক সময়েই এসে পৌঁছালাম। যথারীতি চেক ইন ও হলো। কিন্তু পরে বিমান বন্দরের নোটিশবোর্ড চোখ আটকে গেলো। আমাদের বিমান কুয়ালালামপুরের দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার জন্য বিলম্ব হবে। তাই আমরা একটা কফিশপে বসলাম। পাশের বইয়ের দোকানগুলোতে দিলাম ঢু, কিন্তু বিমানের কোন খবর নেই। বালি বিমান বন্দরটি খুব বড়ো না হলেও বেশ বড়ো। আমাদের বিমান বন্দরের চেয়ে তো বড়োই। একেবারে সমুদ্রের তীরে এটি অবস্থিত। আসার সময় মনে হচ্ছিলো সাগরে নেমে পড়বে। যাক আমাদের প্রতিক্ষার অবসান হবে মনে হলো কারণ আমাদের বিমানে ওঠার গেট নম্বর ঘোষনা হলো। ৯ নং গেট। শাওন আমাদের ২ নং বসিয়ে গেট দেখতে গেলো। অনেক দেরী হচ্ছে দেখে আমি এগুলোলাম। দেখি সে একটি হুইল চেয়ার নিয়ে ফিরছে। তার মা'র জন্য কারণ গেটটা অনেক দূরে তার হেটে যেতে কষ্ট হবে।


এবার আমরা ৯ নম্বর গেটের দিকে এগুলাম। সেখানে পৌছে বসলাম চেয়ার জুড়ে। বিমানের পক্ষ থেকে হাল্কা কিছু খাবার দেয়া হলো। শেষ পর্যন্ত আবার গেট পরিবর্তন করে বিমানে ওঠা হলো। তিনঘন্টা যাত্রাশেষে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অবতরণ। এখানে আমাদের পরিকল্পনা ছিলো বিমানবন্দেরের হোটেলে দুটো কক্ষ নিয়ে বিশ্রাম করবো। কিন্তু হোটেলে কোন রুম নেই। অত: এব নিরুপায় হয়ে প্রিমিয়াম লাউঞ্জে বিশ্রাম সারলাম। সকাল আটটায় উঠে এখানেই হাল্কা প্রাত:রাশ সেরে বের হলাম ঢাকাগামী বিমানে উঠবো বলে। পথে বিমানবন্দেরের বিপনী থেকে টুকিটাকি কেনা কাটা করে যথা সময়ে বিমানে ওঠলাম।

প্রায় ৪ ঘন্টা ওড়ান শেষে ঢাকায় অবতরণ করলাম। গ্যংওয়েতে বের হয়েই দেখি প্রচন্ড গরম। সেটা সমস্ত আগমনী এলাকায়। এখানে নেমে একটি টয়লেটে দেখা গেলো পুরুষ মহিলাদের জন্য মাত্র দুটো করে টয়লেট। মহিলাদের একটি টয়লেটে দেখা গেলো এর ছিটকিনি নেই। টয়লেট গুলো অপরিচ্ছন্ন। বিদেশের আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের এ অবস্থা দেখে নিজেদের দৈন্যতার জন্য মনে মনে লজ্জাই পেলাম। এলাম ইমিগ্রেশন এলাকায়। এখানে সুদীর্ঘ লাইন কিন্তু কয়েকটি কাউন্টারে কোন কর্মকর্তা নেই। জানা গেলো তারা ঈদের ছুটিতে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে এদের ছুটিতে যেতে দেয়া হয়েছে। লাইন বাঁকা থ্যড়া, অন্যজনকে টপকিয়ে বঙ্গসন্তানদের আগে যাবার প্রচেষ্ঠা এসব দেখে মনটা বিষিয়ে উঠলেও কোন কিছু করতে না পারায় অক্ষমতার যাতনা নিয়ে পার হলাম এ ঘাট। এবার মালামাল সংগ্রহের পালা। এখানে ও অব্যবস্থা। মালামাল আসার জন্য বাম ও ডান দিকে বেল্টগুলো থাকলেও ট্রলি থাকে শুধু বা দিকে। যাদের মালামাল ডানদিকের বেল্টে আসে তাদের বেশ দূরবর্তী বা দিকে রাখা ট্রলি আনতে হয়। তাই ট্রলি নিতেও হয় টানাটানি। অথচ ডানদিকে ও ট্রলি রাখা হলে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্থি পেতেন। এর মধ্যদিয়ে আমাদের ব্যবস্খাপনার দক্ষতার অভাব প্রকট ভাবে চোখে পড়ে। বিমানবন্দরে একঘন্টা লাগিয়ে অবশেষে ফিরে এলাম নিজ ডেরায়।