মেয়েদের স্কুলে ছেলেদের ভর্তি হতে মাইকিং!

../news_img/57430mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::জাতীয়করণের আশায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বাউফল উপজেলার কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার জন্য মাইকিং করছে ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত দু'দিন ধরে উপজেলার কালাইয়া বন্দর ও তার আশেপাশের এলাকায় এই মাইকিং করানো হয়।

হঠাৎ করে 'মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি'—এ ধরনের ঘোষণায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার কোন বিধান নাই।

জানা গেছে, কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিনশ'। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন ছেলে ভর্তি করানো হয়নি।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম রেজা জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি করে সহশিক্ষা চলছে। এ কারণে কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশানুরূপ ছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এর জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনূর রশিদ বলেন, 'বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠমো বর্তমানে পর্যাপ্ত রয়েছে। তাই ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার জন্য মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়।'

মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি করলে স্কুলের পরিবেশগত কোন সমস্যা হবে কি-না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ দেন। অনুমতি না নিয়েই কেন মাইকে ভর্তির ঘোষণা দিলেন—এ প্রশ্নের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টির কিছু অতি উৎসাহী শিক্ষক অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষকগণ প্রাইভেট পড়ানোয় ব্যস্ত থাকেন, তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে অমনোযোগী। এ কারণেই ক্রমশই বালিকা বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় অন্য বিদ্যালয়ে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া ওই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আশায় প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ এ কাজটি করেছেন বলে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুলতাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, 'বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে ছেলেদের ভর্তির জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সরকারিভাবে এ ধরনের কোন বিধিবিধান নেই বলে তাদেরকে না বলে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরেও তারা কি করে বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে মাইকিং করেছে তা তার বোধগম্য নয়।'

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, 'এ বিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি অনৈতিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।' সূত্র: সমকাল।