প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়া যাচ্ছেন রোববার

../news_img/57374 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত কম্বোডিয়ায় তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর তিনি কম্বোডিয়া সফর করবেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বৌদ্ধপ্রধান ও আসিয়ানের সদস্য দেশে আমরা সফর করছি, এর একটা গুরুত্ব আছে। ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যাবে। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়া একটি প্রতিনিধি দলও সফরে থাকবে।’

মাহমুদ আলী আশা প্রকাশ করেন, রোহিঙ্গা ফেরাতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের সঙ্গে আমাদের আগে থেকেই হৃদ্যতার সম্পর্ক রয়েছে।
 
কিন্তু জাতিসংঘের থার্ড কমিটির ভোটাভুটিতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয় কম্বোডিয়া। এ সফরের পরে মিয়ানমারের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কি? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আশা করছি সফরের পর আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সফরে দুটি চুক্তি ও নয়টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেসরকারি বিমান চলাচল ও দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি হতে পারে। জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠন, ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন, শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, যুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার এবং বিনিয়োগ প্রসারে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক এবং রয়্যাল একাডেমি অব কলম্বিয়ার মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

মাহমুদ আলী বলেন, ‘এ সফরে দেশ দুটি জাতির পিতার সম্মানে নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে একটি করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করবে। কম্বোডিয়া সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে তাদের রাজধানী নমপেনের একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করবে। এদিকে বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত পার্ক রোড কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক কোনো দূতাবাস নেই। সফরে দুই দেশের মধ্যে দূতাবাস খোলার বিষয়েও কথা হতে পারে।

মাহমুদ আলী বলেন, ‘সফরসূচিতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যৌথ সংবাদ সম্মেলন, কম্বোডিয়ার রাজা, সিনেটের প্রেসিডেন্ট এবং ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎসহ উভয় দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন আয়োজিত সংলাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাণিজ্যিক সংগঠনের সংলাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। শেখ হাসিনা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেবেন।’

মন্ত্রী বলেন, এ সফর উভয় দেশের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা সুদৃঢ়করণ, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। রাজনৈতিক দিক থেকে এ সফর আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং ‘মেকং গঙ্গা কোঅপারেশন’-এ বাংলাদেশের যোগ দেয়ার পক্ষে কম্বোডিয়ার সমর্থন আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ফলে এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।

মাহমুদ আলী বলেন, ২০১৪ সালের ১৬-১৮ জুন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।