আনিসুল হকের মরদেহ আসছে আজ

../news_img/57384 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ যুক্তরাজ্য থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় দেশে আনা হবে।
 
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ প্রথমে তার বাসায় নেয়া হবে। বিকাল ৩টা থেকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে রাখা হবে।
 
সেখানেই বিকাল ৪টায় আসরের নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ বনানী করবস্থানে দাফন করা হবে।
 
এর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সেন্ট্রাল মসজিদ (রিজেন্ট পার্ক মসজিদ নামে পরিচিত) জুমার নামাজের পর আনিসুল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশি সব শ্রেণী-পেশার মানুষ।
 
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
এদিকে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এ জন্য আগামী রোববার ডিএনসিসি বন্ধ থাকবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, জানাজা শেষে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আনিসুল হকের মরদেহ পাঠানো হবে। সেখানে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট রয়েছে। সেই ফ্লাইটে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছবে।
 
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমও জানাজায় অংশ নেন। পরে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আনিস ভাই খুবই জনপ্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। তিনি যে রকম শিল্প-সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে নতুন কিছু উপহার দিয়েছিলেন, তিনি ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে নেতৃস্থানীয় একটি জায়গায় নিয়ে গেছেন।’
 
২০১৫ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনেকটা চমক হিসেবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হন আনিসুল হক। ওই কথা তুলে ধরে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা অনেকে অবাক হয়েছিলাম তিনি যখন রাজনীতিতে যোগ দেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই দুই বছরে আনিসুল হক যারা কাজ করতে চান তাদের ‘স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কারও কাছে মাথা হেঁট করেননি। অনেক শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন।’
 
২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটলে তাকে ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ২৮ নভেম্বর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
 
শোক প্রকাশ : মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। এক শোকবার্তায় শুক্রবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, দলের যেকোনো কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি ছিল সবসময় সরব। একজন সৎ, ত্যাগী, আদর্শবান রাজনীতিক হিসেবে তিনি আজীবন মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
 
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল শোক জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ শোক জানিয়েছে। এ দুই শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। পৃথক শোকবার্তায় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠন আনিসুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান।