নির্বাচন নিয়ে জটিলতা মূলে নতুন ১৮ ওয়ার্ড

../news_img/57444 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদ গত ১ ডিসেম্বর থেকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে  জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ১৫ (ঙ) অনুযায়ী এই পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। তবে এই সিটির মেয়র পদের উপ-নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) উভয়পক্ষে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা উত্তর সিটিতে পরে নতুনভাবে ১৮টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হলেও সেগুলোতে নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। সম্প্রসারিত উত্তর সিটিতে শুধু মেয়র পদে, নাকি ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে তা নিয়ে দ্বিধায়    পড়েছে ইসি।

অবশ্য গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী শূন্য ঘোষণা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ডিএনসিসির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ হিসেবে আগামী ২ মার্চের মধ্যেই এই উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে আনিসুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। লন্ডনে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় চিকিত্সাধীন থাকার পর ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে ওয়েলিংটন হাসপাতালে আনিসুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

মন্ত্রণালয় ও ইসি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও উপনির্বাচন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মধ্যে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে একজন সংসদ সদস্যসহ বেশকিছু আপত্তি রয়েছে। এগুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া নির্বাচন সম্ভব হবে না। বর্তমানে প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন ৩৬ ওয়ার্ড নিয়ে জটিলতা

সিটি করপোরেশনের পাশ্ববর্তী ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডে যুক্ত করা হয়। গত আগস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করলেও এ সংক্রান্ত কোন নীতিমালা না থাকায় নির্বাচন করতে পারেনি ইসি। ঢাকার দুই সিটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর আড়াই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু এখন নতুন এসব ওয়ার্ডে নির্বাচন হলে সেগুলোর কাউন্সিলরদের মেয়াদ কতদিন হবে? তারা কি ৫ বছর থাকবে নাকি বর্তমান সিটির করপোরেশনের মেয়াদে আড়াই বছর পর তাদেরও মেয়াদ শেষ হবে-এ নিয়ে বেশ সংকটে পড়েছে কমিশন।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। চিঠি পাওয়ার পর নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এক মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা বিন্যাস করার জন্য জেলা নির্বাচন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে ভোটার তালিকার সিডি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে উত্তরের মেয়র পদ শূন্য হয়েছে। তবে কখন, কবে ও কীভাবে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে তা কমিশন নির্ধারণ করবে।

সীমানা বাড়ানোর ফলে বাড্ডা, ভাটারা, সাতারকুল, বেরাইদ, উত্তরখান দক্ষিণখান, ফায়দাবাদ, নলভোগ, দিয়াবাড়ী, কামারপাড়ার বিভিন্ন মৌজা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিটি করপোরেশনের সাথে নতুন কোনো ওয়ার্ড যুক্ত হলে কোন প্রক্রিয়ায় সেগুলোতে নির্বাচন হবে এ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। এছাড়া কত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে এটাও বলা নেই। যদি কোনো ইউনিয়নে নতুন কোনো ওয়ার্ড যুক্ত হয়; তাহলে একটি বিধান রয়েছে পূর্বতন প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে সেখানে সাধারণ নির্বাচন করা যাবে না। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এসব কিছু বলা নেই। তাই এ সংক্রান্ত আইন-বিধি সংস্কার করা ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া গেজেট প্রকাশ করার পর ওইসব ওয়ার্ডে যারা প্রতিনিধি ছিলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা এখন আর প্রতিনিধি নেই। নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব এলাকা জনপ্রতিনিধি শূন্য থাকবে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করা হলে সেগুলোতে নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। ওই আইনের ৩৪ অনুচ্ছেদে সিটি করপোরেশন নির্বাচন কখন করতে হবে তার বর্ণনা রয়েছে। সেখানে নতুন সিটি করপোরেশন গঠনের ক্ষেত্রে ১৮০ দিন, করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে আগের ১৮০দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া করপোরেশন গঠন বাতিল ও করপোরেশন বিভক্তির ক্ষেত্রেও ১৮০দিনের মধ্যে নির্বাচনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বিষয়টি কমিশনের উপর ছেড়ে দিতে চান ইসির কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ টি সাধারণ ও ১২ টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫৭ টি সাধারণ ও ১৯ টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের পাশ্ববর্তী ৮টি করে মোট ১৬ টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত করে গত ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। এতে ঢাকা উত্তরের সাথে নতুন করে ১৮ টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়। নবগঠিত এলাকা নিয়ে এ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা এখন ৫৪ টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৮ টি। একইভাবে দক্ষিণের সাথে নতুন ১৮ টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় এ সিটিতে এখন মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫ টি। - ইত্তেফাককে