২০১৭ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী, ভালো বা খারাপ ব্যক্তি হতে চলেছেন কারা?

../news_img/57462 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন ১৯২৭ সাল থেকেই ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা দিয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে প্রভাবশালী, ভালো বা খারাপ ব্যক্তি নির্বাচন করে সংবাদমাধ্যমটি।

গতকাল সোমবার সকালে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসির টুডে অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালের পারসন অব দ্য ইয়ারের জন্যও মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

তালিকায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন, আমাজনের কর্ণধার জেফ বেজোসসহ অনেকেই।

আগামীকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে এ বছরের পারসন অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কারা আছেন সেই তালিকায়।

১. জেফ বেজোস
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস এ বছরই বিশ্বের সেরা ধনী হন। অনলাইনে শুধুই বই বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু আমাজনের। এখন অনলাইনভিত্তিক পণ্যের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এটি। প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় শীর্ষে আমাজন, যার মধ্যে আছে, ক্লাউড কম্পিউটিং, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও বিপণন, সংগীতের বিপণন। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় অবদান রাখছে আমাজন।

মার্কিন সিকিউরিটি এবং এক্সচেঞ্জ কমিশনের এক হিসাব অনুযায়ী, বেজোস ২০১৭ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির শতকরা ১৬ দশমিক ৭ ভাগ শেয়ারের অধিকারী ছিলেন। ওই সময় তাঁর সামগ্রিক সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার।

২. ড্রিমার্স প্রকল্প
ড্রিমার্স প্রকল্পের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্রহীন কয়েক হাজার অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র বাস করছেন। এঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন তাঁদের মা-বাবা। ট্রাম্প প্রশাসন বারাক ওবামা আমলের এ নীতি বাতিল করায় এ সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। পরে এ নিয়ে আন্দোলন বিক্ষোভের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রিমার্স প্রকল্পের অধীনে বসবাসকারী অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৩. প্যাটি জেনকিন্স
‘ওয়ান্ডার উইমেন’ চলচ্চিত্রের পরিচালক প্যাটি জেনকিন্স। প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এরপরই ‘ওয়ান্ডার উইমেন’-এর দ্বিতীয় কিস্তিতেও তিনি পরিচালক থাকছেন।

৪. কিম জং-উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ফার্স্ট সেক্রেটারি, উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ান পিপলস আর্মির সুপ্রিম কমান্ডারও তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক ঢুকিয়েছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন। একের পর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন ভূখণ্ডে হামলা চালানোর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও উত্তেজনাপূর্ণ বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়েছেন কিম। ট্রাম্প তাঁকে রকেটম্যান বলে ব্যঙ্গ করেছেন।
২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রথম হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর নেপথ্যের ব্যক্তিও এই কোরীয় নেতা। হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কিম বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হুমকি, চাপ, ভাবনা নিয়ে তাঁর তেমন মাথাব্যথা নেই। তাই বিশ্বনেতাদের বুড়ো আঙুল দেখাতে কার্পণ্য করেননি তিনি।

৫. কলিন কায়োপারনিক
সানফ্রান্সিসকো ফুটবল টিমের কোয়ার্টার ব্যাক কলিন কায়োপারনিক ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ণবাদের বিরোধিতা করে সারা বছর আলোচনায় ছিলেন। খেলার শুরুতে জাতীয় সংগীতের সময় না দাঁড়িয়ে হাঁটু গেড়ে তিনি প্রতিবাদ জানান। ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে এই প্রতিবাদ বছরজুড়েই বাড়তে থাকে।

৬. হ্যাশট্যাগ মি টুও (#MeToo)
হলিউডের মুভি মুঘল হার্ভে উইনস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির খবর ফাঁসের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করতে নারীদের উৎসাহিত করতে শুরু করেন #মিটু মুভমেন্ট। যৌন নিপীড়নবিরোধী এক প্রচারণায় নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও অংশ নেন। সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ মি টুও (#MeToo) লিখে এ শরিক হন। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির প্রতিবাদে বিশ্বের অনেক নারী ঘোষণা দিয়ে একদিনের জন্য টুইটারও বর্জন করেছিলেন।

৭. রবার্ট মুলার
মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্পেশাল কাউন্সিলর এফবিআইয়ের পরিচালক রবার্ট মুলার ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্তের পর মুলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রবার্ট মুলার পেশায় একজন আইনজীবী। ১২ বছর গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

৮. মোহাম্মদ বিন সালমান
২০১৫ সালে তাঁর বাবা যখন সৌদি আরবের বাদশাহ হয়েছিলেন, তখন থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম আলোচনায় আসতে থাকে। ৩১ বছর বয়সী সালমান সৌদি আরবে প্রবল ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন ধীরে ধীরে। সরিয়ে দেন চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফকে। মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স পদে আসীন করেন তাঁর বাবা এবং সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমান। ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে যিনি আসীন হন, পরে সৌদি আরবের বাদশাহ হন তিনি।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১১ জন প্রিন্স, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেন। পশ্চিমা বিশ্ব মোহাম্মদ বিন সালমানকে এমবিএস নামে ডাকে।

৯. ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচন হওয়ার বছরই (২০১৬) টাইমের পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর নিয়মিত নানান বিষয়ে টুইট করেও তিনি থাকেন আলোচনায়।

১০. শি জিন পিং
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের জন্য দেশটি শাসনের ক্ষমতা পেয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা আদর্শিক চিন্তাধারা হিসেবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি চীনে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

তবে বিশ্ব মিডিয়ায় নানা কারণে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য থাকা কিম জং-উনের এই তালিকায় থাকা কিছুটা বিস্ময় জাগতেই পারে। তবে এবারই প্রথম নয়, ২০১৫ সালেও প্রথম আটে এমন একজনের নাম ছিল, যা দেখে অনেকেরই চোখ কপালে তুলেছিলেন। নামটি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির।

যদি কিম জং-উন এবার টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন, তবে এমন ঘটনা প্রথমবারের মতো হবে না। কেননা এর আগেও এক নায়ক অ্যাডলফ হিটলার ১৯৩৮ সালে পারসন অব দ্য ইয়ার হয়ে টাইমে প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনও টাইমের পারসন অব দ্য ইয়ার হয়েছেন। তবে একবার নয়, দুইবার ১৯৩৯ ও ১৯৪২ সালে তিনি টাইমের পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন।