সিলেটে ওয়ারেন্ট জালিয়াতির তদন্ত করেছে পুলিশ সুপারের গঠিত তদন্ত কমিটি

../news_img/osmani nogor mri.jpg

ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি :: সিলেটে জাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে নিজ দলের প্রতিপক্ষ নেতাকে ফাঁসানোর ঘটনায় সিলেট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা(ডিএসবি) পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরজমিন ওসমানীনগর থানায় কমিটির সদস্যরা তদন্ত করেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশের বিশেষ শাখা(ডিএসপির)এএসপি নূরুল আফসার, ইন্সপেক্টর ক্রাইম শফিকুল ইসলাম মুকুল ও কোর্ট ইন্সপেক্টর  ওসমানীনগর থানার সেকেন্ট অফিসার, ওয়ারেন্ট অফিসার, সহকারী ওয়ারেন্ট অফিসার, ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার, ভূয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজ্জাদুর রহমানের সাথে কথা বলেন এবং তাদের নিকট থেকে লিখিত বক্তব্য নেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশের বিশেষ শাখা(ডিএসবির)এএসপি নূরুল আফসার বলেন, বিষয়টি দীর্ঘ মেয়াদী তদন্ত করতে হবে। আজ আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্ত করলাম। পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে ফলাফল জানা যাবে।

উল্লেখ, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুক তার নিজ দলের ওসমানীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমানকে ভূয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতার করান। এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে  সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুকে রোববার রাত রাত ৯টায় সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজি আবদুল হান্নানের নির্দেশে ওয়ারেন্ট জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করে বিএনপির ওই নেতার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান আদালত।

এরপর নগরীর পাঠানটুলার বাসা থেকে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে কোর্ট ইন্সপেক্টর নিজাম উদ্দিন চৌধুরী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন তিনি এ জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িত।
এর আগে ওসমানীনগর থানা পুলিশ বুরুঙ্গা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে উপজেলা বিএনপির সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা সেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমানকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিআর ৭৯/১৫ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে পাঠায় ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

এক পর্যায়ে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ও জাল ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়টি নজরে আসে আদালতের। এরপর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দেন।এর পরপরই ডিবি পুলিশের সহায়তা নিয়ে তিনি তদন্ত করে দেখতে পান আদালতের বিচারক ও পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা কাগজপত্র দিয়ে জাল ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।