আজ ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা মুক্ত দিবস

../news_img/map boroleaka.jpg

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)  ::  আজ ৬ ডিসেম্বর বুধবার। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল হানাদার বাহিনী বড়লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়। ৬ ডিসেম্বর ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রু মুক্ত হলে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও ওইদিন বড়লেখায় উদিত হয় লাল সবুজের পতাকা।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা বাসী জেগে উঠেছিল রণ-হুঙ্কারে। ৩২৫টি গ্রাম যেন প্রতিরোধের এক একটি  দুর্গে পরিণত হয়। বড়লেখা থানাটি ৪নং সেক্টরের আওতাভুক্ত ছিল। মেজর সি.আর দত্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। এ সেক্টরের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের করিমগঞ্জে প্রয়াত এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে। বড়লেখা থানার পার্শ্ববতী বার পুঞ্জি ও কুকিরতলে সাব সেক্টর স্থাপন করা হয়। হানাদারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য ছোট বড় আক্রমণ চালিয়েছে এ সাব সেক্টরের মুক্তি সেনারা। যুদ্ধের শুরুতেই বড়লেখার স্থানে স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে সংগ্রামী বড়লেখার মানুষ। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তাঁরা নেমে পড়েন শত্রুর মোকাবেলায়। 

বড়লেখায় মুক্তিযোদ্ধারা যেসব স্থানে অপারেশন চালিয়েছেন, এর মধ্যে গ্রামগুলো হলো-লাতু, সারোপার, শাহবাজপুর, ধামাই চা বাগান, হাকালুকি পারের কয়েকটি গ্রাম, বোরাথল, মাইজগ্রাম, ডিমাই, কেছরিগুল, কাঁঠালতলী, মাধবকু-, দশঘরি। এগুলো মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করত। বড়লেখা থানায় পাকসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের রয়েছে রকমফের। এর কারণ এ উপজেলার বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। পাহাড়, হাওর, খাল-বিল, টিলা, নদী এক অবিশ্বাস্য সমন্বয় হচ্ছে বড়লেখা থানা। তৎকালিন সময়ে ভৌগোলিক বৈচিত্রের প্রভাবে প্রতিবিম্বিত হয় যুদ্ধ কৌশল। পাহাড়, টিলা, উঁচুভূমি আর সমতল কিংবা নি¤œাঞ্চলের যুদ্ধের কৌশল সঙ্গত কারণেই ছিল পৃথক। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল হানাদার বড়লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়। ৬ ডিসেম্বর ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হলে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ করা হয়।

বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধের সময় যেসব রাজাকার, আলবদর অনেক বাড়ি-ঘর জ্বালিয়েছে, অনেক মা-বোনের সম্ভ্রমহানী ও নর-নারীকে হত্যা করেছে তাদের অনেকের বিচার ইতিমধ্যে হয়েছে। অন্যদেরও বিচার এ বাংলার মাটিতেই হবে।’ তিনি জানান, কুলাউড়া, বিয়ানীবাজারের চেয়েও বড়লেখায় বেশি নারী নির্যাতন ও হত্যাকা- হয়েছে। 

এদিকে বড়লেখা হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বড়লেখা প্রেসক্লাব, নজরুল একাডেমি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কামান্ড যৌথভাবে বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।