আন্দোলনের মাধ্যমেই আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হবে: মওদুদ

../news_img/57513 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, তার বক্তব্য শুনে  মনে হয়েছে তিনি ২০১৪ সালের মতো আরও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছেন। সেজন্য তিনি কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নন। ভোটবিহীন নির্বাচনেই তিনি ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। তবে এবার তাকে আন্দোলনের মাধ্যমেই আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হবে।
 
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।
 
গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বর্তমান সরকার নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচার বিভাগ ধ্বংসের শেষপ্রান্তে রয়েছে। নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কবে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা ফিরে পাবে, বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে মুক্ত মনে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারবে, সেটা এখন অনিশ্চিয়তার মধ্যে আছে।
 
নিম্ন আদালততো সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এ জন্যই সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব ছিল। নিম্ম আদালত, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য এস কে সিনহাকে অথার্ৎ একটি প্রতিষ্ঠানকে একেবারে ঘুরিয়ে দিয়েছেন বর্তমান সরকার। বর্তমান সরকারের কাছে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই।
 
মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব আমাদের মহাসচিব দিয়েছেন। আমি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কথা বলেছেন তাতে তিনি আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছেন। তবে দেশের জনগণ তা কিছুতেই মেনে নেবে না।
 
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের সরকার যে সামান্য প্রতিবাদ জানিয়েছে সেটা যথেষ্ট নয়। আমি মনে করি সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাতে হবে।
 
প্রধান বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশে প্রতিনিয়তই হত্যা ঘুম চলছে। সরকার মানবাধিকারের ধারে কাছেও নেই। প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি আর্কষণ করে দুদু বলেন, আপনার সাহস থাকলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন করুন। আমরা নির্বাচন করবো, কিন্তু আপনার অধীনে না।
 
সংগঠনের সভাপতি ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ইসা, কল্যাণ পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।