বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

../news_img/57652 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে এ জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যায় মেতে ওঠে।

একাত্তরের সেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আবালবৃদ্ধবনিতা হাতে হাতে শ্রদ্ধার ফুল নিয়ে যায় রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে।

সমবেত বাঙালি পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানায়। ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা আর ফুলে ভরে যায় দেশের স্মৃতির মিনারগুলো।

তুরস্ক সফর থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে দেশে ফিরে সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পৌঁছান। স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল সশস্ত্র সালাম জানায়। তখন বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

পরে ফ্রান্স সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন।

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। অনেকে যান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এ সময় অনেকেরই হাতে ছিল জাতীয় পতাকা আর শ্রদ্ধার ফুল।

বিএনপির পক্ষে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিরপুর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে জঙ্গিবাদের স্থান নেই। তাদের কোনো অপতৎপরতা সফল হবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় তিনি বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হওলাদারের নেতৃত্বে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে সকাল ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে বিএমএ ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে। সকাল ৭টায় কালোব্যাজ ধারণ করে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বিকাল ৩টায় বিএমএ ভবনে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

রায়েরবাজার : বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন শেষে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছেন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনতা পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শহীদদের স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠন।
এসব সংগঠনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, গণজাগরণ মঞ্চ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর ইত্যাদি।

এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, লালমাটিয়া বালিকা বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরাও এসেছিলেন রায়েরবাজারে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধের মূল বেদির পাশে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শিশু-কিশোররা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দৃশ্য মঞ্চায়ন করে। এছাড়াও চট্টগ্রামের থিয়েটার জয় বাংলা মঞ্চস্থ করে পথনাটক ‘কাদামাখা মাইক্রোবাস’। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এ দেশের মানুষ তা হতে দেয়নি। তারা প্রমাণ করেছে, মানুষ মারা গেলেও চেতনা ধ্বংস করা যায় না।

শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা, বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনেই বড় হয়েছি। শুনেছি বাবাকে পাক হানাদার বাহিনী একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর বিকালে ধরে নিয়ে যায়। তার লাশ আমরা আজো পাইনি।

ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, এখনও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, অবিলম্বে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করা হোক। এটা আমাদের প্রাণের দাবি। বৈষয়িক কোনো লাভ না হোক, দেশ-জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করবে, সম্মান করবে- এটাই আমাদের চাওয়া।

শিল্পকলার আয়োজন : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা এবং গান ও কবিতায় সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে স্মরণ করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনা করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শহীদ জায়া ও শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, শহীদ মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর, শহীদ সিরাজউদ্দীন হোসেনের ছেলে শাহীন রেজা নূর। আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্মরণ : স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বিজয় দিবস উপলক্ষে জোটের চার দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিল আয়োজন। রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চে স্মৃতিচারণ ও আলোচনাসভায় অংশ নেন শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে শাহীন রেজা নূর ও প্রাবন্ধিক সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনার পর ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ছায়ানট ও মরমি লোকগীতি শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।

এদিন বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা ও ভিন্নধারার শিল্পীরা। একক কণ্ঠে গান শোনান ফরিদা পারভীন, আকরামুল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ, আবিদা রহমান সেতু, হাবিবুল আলম ও আসিফ ইকবাল সৌরভ।
রবীন্দ্র সরোবরে ‘বিজয় উৎসব’-এ দলীয় সংগীত পরিবেশন করে নন্দন, গণছায়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, সরদার রহমত উল্লাহ, নার্গিস চৌধুরী, মাহজাবিন রহমান শাওলী, সুচিত্রা ও মিতা। পথনাটক পরিবেশন করে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। এছাড়াও শনিরআখড়ার দনিয়া ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী মঞ্চেও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মিরপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজন : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ওয়েবসাইট উদ্বোধন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের অনুভূতি প্রকাশ ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসবের পঞ্চম দিনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় বুদ্ধিজীবী দিবসের এ আয়োজন।

চন্দ্রকলা থিয়েটারের প্রযোজনায় বিকাল ৩টায় জাদুঘরের মুক্তমঞ্চে ‘যদি কিছু মনে না করেন’ নামের পথনাটক পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পঞ্চমদিনের অনুষ্ঠানমালা। এদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিবেশনায় অংশ নেয় নারায়ণগঞ্জ হাওয়াইয়ান গিটার পরিষদ, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মুক্তবিহঙ্গ একাডেমি। এতে একক সংগীত পরিবেশন করেন লাইসা আহমেদ লিসা। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ছায়ানট। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে সে াত আবৃত্তি সংসদ। সন্ধ্যায় ভাস্কর্য অঙ্গনে ‘যাত্রাপালা’ গঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা পরিবেশন করে মানিকগঞ্জের চারণিক অপেরা।

এছাড়া বিকালে প্রধান মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ওয়েবসাইট উদ্বোধন করে জাদুঘর। এ সময় শহীদ পরিবারের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন শহীদ মধু দে’র নাতনি বর্ণিল ও শহীদ এনায়েত হোসাইনের নাতনি মিত্রিতা। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চারটি মঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উৎসবের অনুষ্ঠানমালা।

বাংলা একাডেমির আয়োজন : বাংলা একাডেমি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধিজীবী সমাধিসৌধ, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

বিকালে একাডেমির নজরুল মঞ্চে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, ড. ফিরোজ মাহমুদ, প্রকাশক আহমেদ মাহফুজুল হক প্রমুখ।