আজ মহান বিজয় দিবস

../news_img/57674 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  সবুজ-শ্যামল বাংলার পথে-ঘাটে আজ সকালের নব রবি যে কোমল পরশ বুলিয়ে গেছে তা বছরের বাকি ৩৬৪ দিনের মতো নয়। পৌষের প্রভাতেও ছিল না কুয়াশার আধিক্য। এ যেন বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অমিত সম্ভাবনার হাতছানি। আজকের সূর্য ছিল অনেক তেজস্বী। সেই সূর্য দিয়ে গেছে নয়া জীবনের ডাক। গতরাত থেকেই বাংলার শহর-বন্দর, অলি-গলি, গ্রাম-গঞ্জ ও মেঠোপথের পল্লীতে বেজে চলেছে বিজয়ের গান। বাঙালির হৃদয় গহীনে অনুরণিত হচ্ছে সেই সুর। মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই/খুশির হাওয়া ওই উড়ছে/বাংলার ঘরে ঘরে, মুক্তির আলো ওই ঝরছে।’ কেননা, আজ বাঙালির গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির দিন।
 
আজ মহান বিজয় দিবস। দেদীপ্যমান, প্রসন্ন ও আলোকিত বিজয় দিবস। বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসরদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার দিন। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৪৬ বছর আগে এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল এক নতুন দেশ- বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির জীবনে তাই আজ এক মহা আনন্দের দিন। এমনই একটি দিনের প্রতীক্ষায় বাঙালির কেটেছে হাজারও বছর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাঙালির বিজয় ছিনিয়ে আনার দিন। সেই দিনে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র সমর্পণ করে। এরপর মাথা নিচু করে দাঁড়ায় অকুতোভয় বীর বাঙালির সামনে। স্বাক্ষর করে পরাজয়-সনদে। এ কারণেই আজকের দিনটি এতটা গৌরবের ও আনন্দের। তবে এ বিজয় অর্জনে যেহেতু এক সাগর রক্ত আর হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম দিতে হয়েছে, তাই আনন্দের পাশাপাশি বাঙালির মনে আছে অনেক ব্যথা, কষ্ট। এ কারণে ৪৭তম বিজয় দিবসে মুক্তির জয়গানে মুখর কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে আজ স্মরণ করবে জাতির সেইসব শ্রেষ্ঠ সন্তান ও অকুতোভয় বীর এবং মা-বোনদের। এ সময় অনেকেরই মুখে থাকবে চেতনা শানিত করার গান, ‘সবকটা জানালা খুলে দাওনা/আমি গাইব গাইব, বিজয়েরই গান/ওরা আসবে, চুপি চুপি/যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।’
 
আজকের বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। এতে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
 
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারা দেশে স্মৃতির মিনারগুলো আজ শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। চিরকৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে গাইবে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম/সকল শহীদ স্মরণে/আমার হৃদয় রেখে যেতে চায় তাদের স্মৃতির চরণে...।’ পাশাপাশি বিজয়োল্লাসরত মানুষ শপথ নেবে স্বপ্নীল দেশগড়ার। ৪৬ বছরের মতই সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে দেশকে সাফল্য আর সমৃদ্ধির শিখরে লাল-সবুজের গর্বিত পতাকা উড়ানোর শপথ নেবে।
 
কয়েক দিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের মফস্বল শহর এমনকি গ্রাম-গঞ্জে ১৬ ডিসেম্বর ও মহান বিজয় দিবসের উৎসবের আগমনী লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ এবং প্রধান প্রধান সরকারি ভবন আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শহরে দোকানে দোকানে তৈরি হয় লাল-সবুজের নতুন পতাকা। গাড়িতে পতাকা বহনের বিধি-নিষেধ গত কয়েক দিন ধরেই শিথিল। সাধারণ মানুষের গাড়িতে যে যেভাবে পারছে উড়াচ্ছেন পতাকা। কেউবা অস্থায়ী ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড তৈরি করে তাতে উড়িয়েছেন। অনেককে সামনের অংশজুড়ে পতাকা বেঁধে রাঙাতে দেখা গেছে নিজের গাড়ি। এছাড়া বাস-সিএনজিতেও বাঁশের কাঠি কিংবা প্লাস্টিকের লাঠিতে গর্বের পতাকা পত পত করে উড়াতে দেখা গেছে। রাজপথেও বাঁশ-লাঠিতে বেঁধে পতাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে পরম মমতায়। কোনো রকমে নিজের দেশের পতাকা চেনার মতো বয়স হয়েছে- এমন অবুঝ শিশুকেও দেখা গেছে এর (পতাকা) প্রতি আকৃষ্ট হতে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন স্কুলের সামনে দেখা গেল তেমনই একটি দৃশ্য। ৫ বছরের শিশু সারাহ আয়েশা আহমদ বাবার হাত ধরে এসেছিল স্কুলে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হতে। স্কুলের সামনে এসএম হলের ফুটপাতে পতাকা বিক্রি করতে দেখে দৌড়ে চলে যায় হকারের কাছে। সারাহ বাবাকে তাগিদ দিচ্ছিল পতাকা কেনার। পরে কেনা দুটি পতাকার একটিতে লাল বৃত্তের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত থাকলেও এবং আরেকটিতে মানচিত্র নেই কেন- সেই প্রশ্ন করতে দেখা যায়। এভাবে বিজয় দিবসক্ষণে সারা দেশেই বাজারে মুক্তিযুদ্ধকালীন পতাকা এবং বর্তমান পতাকা- দুটিই বিক্রি করতে দেখা গেছে।
 
এবারের বিজয় দিবস ভিন্ন মাত্রায় উদযাপিত হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ কণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক আসা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ইতিমধ্যে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলের স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান ঘোড়ার মতো ছুটছে বাংলাদেশ। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতুর মতো বড় বিনিয়োগের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখিয়েছে এদেশ। আজকে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের অংশীদারও ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট দেশটি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, নির্ধারিত সময়ের আগেই এমডিজির (সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অধিকাংশ লক্ষ্য পূরণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি। অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মধ্যে অবগাহন করছে। মাতৃভূমিকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের প্রাণান্ত চেষ্টার মাধ্যমে আমরাও সেই বিপ্লবের অংশীদার হওয়ার সফল দাবিদার।
 
নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও চড়াই-উৎরাই করে চার দশক পর একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হয়েছে। মিরপুরের কসাই নামে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ফাঁসির রশিতে ঝুলতে হয়েছে বদর নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে। এক রশিতে ঝুলানো হয়েছে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং অপর যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অন্যদের। বড় ঘাতকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শেষ হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে তাই এ দিনটি স্মরণ করা হয় কিছুটা ভিন্ন ভাবে। সবার চোখে-মুখে কিছুটা হলেও কলংক মোচনের স্বস্তি। তবে ঘাতকদের বিচার এখনও শেষ হয়নি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখনও বিচার চলছে অন্য ঘাতকদের। সে কারণে এবারের বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের মানুষ নতুন করে শপথ নেবেন। কলংক মোচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ঘাতকদের সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বাকিদেরও বিচারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে সজাগ থাকার শপথ নেবেন।
 
এদিকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মিছিলের স্রোত গতরাত থেকেই এগিয়ে চলেছে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পানে। জাতি আজ শ্রদ্ধাবনত হৃদয়ে স্মরণ করছে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নায়ক বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে তার প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে শপথ নেবেন নতুন প্রজন্মের মানুষ। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারেও শ্রদ্ধা জানাবে লাখো মানুষ। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বন্ধুরাষ্ট্র ভারতকে, যারা সে সময় এক কোটি মানুষকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং আর সাহস জুগিয়েছিল। স্মরণ করা হবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ (রাশিয়া) অন্য বন্ধুরাষ্ট্র ও ব্যক্তির অবদানের কথা।
 
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটির দিন। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উড়ছে। ঘরে ঘরে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা। সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতারাও পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। এরপরই স্মৃতিসৌধে নামে স্বাধীনতাপ্রিয় জনতার ঢল। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে যুগান্তরসহ জাতীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি, বেসরকারি রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
 
বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি
 
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বিজয় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, স্বাধীন বাংলা বেতারের ও দেশবরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে।
 
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
 
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ তিন দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে আছে সূর্যোদয়ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। বিকাল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর সব থানা শাখা থেকে বিজয় শোভাযাত্রা যাবে শিখা চিরন্তন অভিমুখে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর অভিমুখে শুরু হবে বিজয় শোভাযাত্রা। রোববার বিকাল ৩টায় রয়েছে আলোচনা সভা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
 
বিএনপির কর্মসূচি
 
মহান বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১২ দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সকালে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন এবং এরপর শেরে বাংলানগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন তিনি। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রাতে কার্যালয়গুলোতে লোকসজ্জা করেছে দলটি। ইতিমধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ অন্য কর্মসূচি পালন করা হয়। দলের পক্ষ থেকে কাল ঢাকায় বের করা হবে বিজয় শোভাযাত্রা। ১৯ ডিসেম্বর বিকালে মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিকালে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করবে দলটি।
 
অন্যান্য সংগঠনের কর্মসূচি
 
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, ন্যাপ, জাকের পার্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষক লীগ, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।