এক পরিবারের চার নারী ধর্ষণে গ্রেপ্তার ১

../news_img/Dorshon.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুরে এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাসুদ পারভেজ আসামি মো. সুজন ওরফে আবুকে (২৩) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের শাহ মিরপুর এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর এক বাড়িতে ডাকাতি করে ডাকাত দল ওই নারীদের ধর্ষণ করে বলে পুলিশ জানায়।

সোমবার এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মামলা হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

কর্ণফুলী থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মামলা হওয়ার পর রাতে আবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আটক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

আসামি আবুকে টিআই প্যারেড (শনাক্তকরণ) করানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানান ওসি কর্ণফুলী।

স্থানীয়রা জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ওই বাড়ির গ্রিল কেটে ডাকাত দল ভিতরে প্রবেশ করে এবং চার নারীকে ধর্ষণ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। ধর্ষিত নারীদের তিনজন সম্পর্কে জা ও অপরজন তাদের ননদ।

স্থানীয় শাহমীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য থাকতেন না। তিন প্রবাসী ভাইয়ের তিন স্ত্রী, দুই সন্তান ও তাদের মা থাকতেন। তাদের ননদ ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

“১২ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে কয়েকজন যুবক জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে বৃদ্ধা মা ও দুই শিশুকে ছুরি ও অস্ত্র ধরে জিম্মি করে চার মহিলাকে বিভিন্ন রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে।”

ঘটনার পরপর ভুক্তভোগী পরিবার কর্ণফুলী থানায় মামলা করতে গেলে তাদের পটিয়া থানায় পাঠানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পটিয়া থানা থেকে জানানো হয় গ্রামটি কর্ণফুলী থানায় পড়েছে।

“পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় তাদের আমি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের কাছে নিয়ে যাই এবং মন্ত্রীর নির্দেশে কর্ণফুলী থানা মামলা গ্রহণ করে।”

ইউপি চেয়ারম্যান দিদার জানান, ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মধ্যে দৌলতপুর ও বড় উঠান পটিয়া থানার অন্তর্গত ও শাহ মিরপুর কর্ণফুলী থানার অধীনে।

ওসি সৈয়দুল মোস্তফা বলেন, ভুক্তভোগীরা আনোয়ারা থেকে কয়েক মাস আগে বাড়ি তৈরি করে শাহমীরপুর এসেছেন। অভিযোগ করতে এসে তারা বড় উঠান থেকে এসেছিলেন বলে জানিয়েছিল। সেজন্য তাদের পটিয়া থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

“পটিয়া থানায় গিয়ে তার শাহমীরপুর বলার পর আমাদের কাছে আসেন এবং মামলা গ্রহণ করি।”

বড় উঠান ইউনিয়নটি পটিয়া উপজেলার অংশ হলেও তার একটি গ্রাম কর্ণফুলী থানার অন্তর্গত। পটিয়া উপজেলা হলেও সংসদীয় আসন আনোয়ারার অধীনে।