নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুটি বালুভর্তি বলগ্রেটসহ ৭ জন আটক

../news_img/57879 mmm.jpg

এম এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :: নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে রবিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দুটি বালুভর্তি বলগ্রেটসহ ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃত বলগ্রেট জব্দ করে রেখে ৭ জনসহ অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ভূমি অফিসের তহশীলদার আব্দুল কাইয়ূম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

 

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক এবং বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের কাছে কুশিয়ারা নদী থেকে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘ এক মাস যাবৎ সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমার নির্দেশে নবীগঞ্জ উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান ও নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গণি ওসমানী নেতৃত্বে পুলিশসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুটি বালুভর্তি বলগ্রেটসহ ৭ শ্রমিককে আটক করা হয়। এসময় দুটি ড্রেজার মেশিন নিয়ে পালিয়ে বালু উত্তোলনকারী কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যায়। বালুভর্তি বলগ্রেটসহ আটককৃতরা হলো- বরিশাল জেলার রাজাপুর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর মিয়া (৫০),  ঝালকাঠি জেলার নৈকাঠি গ্রামের সুলতান মিয়ার পুত্র সাখাওয়াত হোসেন (৪০), একই জেলার রাজাপুর গ্রামের আজহার আলীর পুত্র সবুজ মিয়া (৩০), ব্রাম্মবাড়িয়া জেলার অরুয়া গ্রামের মৃত ইলিয়াছ মিয়ার পুত্র রিপন মিয়া (৩৫), পিরিজপুর জেলার দুর্গাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র রানা মিয়া (২৮), ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলার মানজুু মিয়ার পুত্র রতন মিয়া (৩০), একই মাইজগুন গ্রামের কুতুব মিয়ার পুত্র জুবেল মিয়া (৪০)।

 

এদিকে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালূ উত্তোলনের ফলে যেকোন মুহুর্তে নদী ভাঙ্গন ও বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এবং শেরপুর সেতু ধ্বসে পড়বে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন। 

 

 কয়েকমাস পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা এসব অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সংস্থা তালুকদার এন্টারপ্রাইজের বলগ্রেড, নৌকা আটক করে আর্থিক জরিমানা ও মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দিলে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সংঙ্গবদ্ধ ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টসহ ওই এলাকার পাহাড়পুর, পারকুল, বনগাঁও ও ব্রাম্মন গ্রামের শেরপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধ্বসে পড়ার আশংকার মধ্যে রয়েছে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এবং শেরপুর সেতু । উত্তোলনকৃত বালু একই এলাকার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিক জোন শ্রীহট্রতে সরবরাহ করা হচ্ছে। 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর বন্যা কবলিত এলাকা পূর্ব তাজপুর এর নিকট থেকে চলমান অবস্থায় ৪টি খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে এমন চিত্র ধারণ করার সময় স্থানীয় তাজপুর এলাকার আব্দুল আওয়াল বলেন, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের এলাকা মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে,আমাদের এলাকা রক্ষার স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছি কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। তিনটি জেলার ৩ টি সংসদীয় আসনের সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে এই বালু উত্তোলন চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। বালু উত্তোলনে প্রতিবাদ করায় কুশিয়ারার নদী এলাকার অর্ধশতাধিক লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। 

 

পারকুল গ্রামের বাসিন্দা হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল মতিন আছাব বলেন, “আমাদের আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুনসহ একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালূ উত্তোলন করে আসছে। গ্রামবাসী তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।” এব্যাপারে প্রশাসনের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান তিনি।  

 

অপর দিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন ‘‘ আমি বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নয়। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।”

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, ‘ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি বলগ্রেট মেশিনসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা বলেন,  অভিযোগ পেয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। দুটি বলগ্রেট মেশিনসহ ৭ জনকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগ অব্যাহত থাকবে। বালু উত্তোলনকারী চক্র যতই শক্তিশালী হোক তাদের বিরুধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।