দুই বোনকে কুপিয়ে ধরা দিল ‘ব্যর্থ প্রেমিক’

../news_img/58064 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় প্রেমে ব্যর্থ হওয়ায় ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বোনকে কুপিয়ে জখম করেছে তাদেরই এক সহপাঠী। পরে ওই প্রেমিক নিজেই পুলিশের কাছে ফোন করে ধরা দিয়েছে।

 মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত দুই বোন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত দুই বোনের মধ্যে বড় বোন স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তার ছোট বোন একই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আহত দুই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, তাঁর বড় মেয়েকে অনেক দিন থেকে পাশের গ্রামের ওই কিশোর প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তারা দুজন সহপাঠী। বিষয়টি তিনি কিশোরের অভিভাবকদের জানালে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল রাতে তাঁর দুই মেয়ে বাড়িতে ঘরের ভেতর পড়ালেখা করছিল। এ সময় সে ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকে দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় দুই মেয়ের চিৎকারে সবাই এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই মেয়েকে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহত দুই বোনের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, ‘দুই বোনকে কুপিয়ে আহত করার বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে কুপিয়েছে তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না।’

অভিযুক্ত কিশোর জানিয়েছে, ‘তার (দুই বোনের মধ্যে বড় বোন) সঙ্গে আমার প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক মাস থেকে সে আমাকে এড়িয়ে চলে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সে অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। গতকাল রাতে তাকে ভয় দেখানোর জন্য একটি দা নিয়ে ওদের বাড়ির পাশে যাই। কিন্তু এ সময় নতুন ওই প্রেমিকের সঙ্গে সে উচ্চ স্বরে হেসে হেসে মোবাইল ফোনে গল্প করছিল। এ ঘটনায় আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। পরে ঘরে ঢুকে তাকে দা দিয়ে কুপিয়েছি। এ সময় তার ছোট বোন এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়েছি। পরে পুলিশকে ফোন করে ধরা দিয়েছি।’

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিনা বেগম বলেন, ‘আহত দুই বোনের বাবা এ ঘটনায় ওই কিশোরকে আসামি করে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। ওই কিশোর নিজেই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর জানিয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’