কল সেন্টারে চাকরির চাহিদা

../news_img/58154mmmr.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::বর্তমান যুগ টেলিমার্কেটিংয়ের যুগ। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশেও অনেক কল সেন্টার গড়ে উঠছে। সুযোগ তৈরি হয়েছে কল সেন্টারকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার। কল সেন্টার কী? কল সেন্টারে কাজের ধরন কেমন? কল সেন্টারে চাকরির সুযোগ কেমন? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাস্টমার সার্ভিস জবের চাহিদা কেমন? বিদেশে কল সেন্টার জবের সুযোগ কতটুকু? কল সেন্টারে চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন লাগে? এ পেশার সুযোগ-সুবিধাগুলো কী কী? এসব প্রশ্নের উত্তর জানাতেই আমাদের এই চেষ্টা।
কল সেন্টার কী?


কল সেন্টার হচ্ছে একধরনের কলকেন্দ্রিক অফিস, যেখানে কল গ্রহণ ও ট্রান্সমিটের কাজ করা হয়। এ কল সেন্টারটি পরিচালনা করা হয় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন দ্বারা, যেখানে কোনো প্রোডাক্ট সাপ্লাই বা সাপোর্ট দেওয়া ও তথ্যসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা ভোক্তাদের প্রদান করা হয়।
কীভাবে কাজ করে?
কল সেন্টারে কিছু এজেন্ট নিয়োগ করা হয় এবং তাদের প্রত্যেককে কম্পিউটার দেওয়া হয়, যা মেইন ওয়ার্ক স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া থাকে। এছাড়াও দেওয়া হয় একটি টেলিফোন সেট বা হেডসেট, যা টেলিকম সুইচের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কল সেন্টারে কল দুই ধরনের হতে পারে, একটা হলো ইন বাউন্ড কল, যেখানে গ্রাহক তার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে চেয়ে বা সমস্যা সম্পর্কে বলবে বা সাহায্য চাইবে। আরেক ধরনের কল হচ্ছে আউট বাউন্ড, যা এজেন্ট তার গ্রাহকদের কাছে করবে কোনো কিছু বেচাকেনার উদ্দেশ্যে, যেমনÑ টেলিমার্কেটিং।
কল সেন্টারে চাকরির সুযোগ
অন্যান্য দেশে এই কল সেন্টারের বিস্তৃতি ও পরিচিতি এরই মধ্যে অনেক। এখন বাংলাদেশেও এর পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে কল সেন্টার। দেশের ৬০টি কল সেন্টারে এরই মধ্যে প্রায় ২০ হাজারের মতো মানুষ কাজে নিয়োজিত আছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে কল সেন্টারগুলোকে লাইসেন্স ইস্যু শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত মোট ১৮৪টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪১টি কল সেন্টার কাজ করছে পুরোপুরি। আর দেশের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানির মধ্যে গ্রামীণফোন কল সেন্টারে ১৪০০ এবং বাংলালিংক কল সেন্টারে প্রায় ৩৫০ জন লোক কাজ করে। এমনকি হাসপাতালগুলো যেমন এ্যাপোলো ও স্কয়ার হাসপাতালে যথাক্রমে ২৫ ও ১

৬ জন লোক আছে শুধু কাস্টমার সার্ভিসের জন্য।
দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ
এ তো গেল দেশের ভেতরে কাজের কথা, এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেমনÑ লন্ডন, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ডে কল সেন্টারগুলোর কিছু ফিক্সড ক্লায়েন্ট আছে, যাদের সঙ্গে তারা নিয়মিত কাজ করে থাকে। মিটিংয়ের আগে তারা সেসব ক্লায়েন্টের জন্য দরকারি কাগজপত্র তৈরি করে, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনও দিয়ে থাকে মিটিংয়ে, যাতে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজে কোনো সমস্যা না থাকে।
কল সেন্টার জবের যোগ্যতা
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যে কোনো বিষয়ে পড়লেই এ চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা শিক্ষানবিশ পদের জন্য স্নাতক পর্যায়ে পড়ছেÑ এমন শিক্ষার্থী এবং এর উপরের পদের জন্য স্নাতক পাস নিয়ে থাকে। এ ছাড়া তাকে অবশ্যই অফিসের কাজের জন্য মৌলিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা ও উত্তর দেয়ার কাজে দক্ষ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন শিফট আছে। যেসব ছাত্রছাত্রী বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী তাদের কল সেন্টারে ভালো কাজের সম্ভাবনাও বেশি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া


কল সেন্টার কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ওয়েবসাইটে ও চাকরির পোর্টালগুলোতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। গ্রামীণফোনের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রথমে চাহিদা অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত দেখেন। পছন্দ হলে আবেদনকারীর মৌখিক যোগাযোগ দক্ষতা পরীক্ষার জন্য কথা বলার যোগ্যতা (ভয়েস) পরীক্ষা করা হয়। এরপর সাক্ষাৎকার ও কর্মভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে।
বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
বিভিন্ন কল সেন্টার ঘণ্টা অনুসারে বেতন দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মানের ওপর বেতন নির্ভর করে। সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকে। তবে কেউ যদি ছুটির দিনেও অফিস করেন, সেক্ষেত্রে বাড়তি বেতন দেওয়া হয়। এ পদে থেকে ভালো দক্ষতা দেখাতে পারলে অনেক উপরের পদে যাওয়া সম্ভব। অনেক সময় এসব পদের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হয়।


এ কল সেন্টার সত্যিকার অর্থেই অনেক বড় কাজের সুযোগ তৈরি করছে এবং সব ক্ষেত্রেই কল সেন্টারের প্রয়োজনীয়তাটা সবাই বুঝতে পারছে। কল সেন্টারে তরুণদের জন্য সুযোগ বেড়েছে, অনেকেই এখন ফুলটাইম বা পার্টটাইম চাকরি করছেন কল সেন্টারগুলোতে। বাংলাদেশেও এর ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে ভালো।