রাজনগরে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

../news_img/58105 mmm.jpg

রিপন দে , মৌলভীবাজার থেকে  :: পুরাতন মরিচা ধরা রড বেরিয়ে আসছে।  ছাদ ছুঁয়ে পানি পরে। ছাদের আস্তর খসে পড়েছে।  জরাজীর্ণ, ভাঙাচুরা ও স্যাঁতসেঁতে ভবন। প্রথম দেখায় বুঝার উপায় নাই এটা একটি হাসপাতাল। এই ভবনেই চলছে   মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের চিকিৎসাসেবা। বেশীর ভাগ দরজা জানালা ভেঙে ভেঙে পরছে আবার অনেক কক্ষের জানালা পুরোটাই ভেঙে গেছে। অন্যদিকে আছে চিকিৎসক সংকট। অনেকদিন ধরেই হাসপাতালের ১০টি পদের মধ্যে পাঁচটি পদ রয়েছে শূন্য। স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে প্রতিদিন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা প্রদান কঠিন হয়ে পড়ছে। আর জরাজীর্ণ ভবনে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।  ১৯৮২ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স স্থাপিত হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ নাগরিকের বাস। এদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ আছে ১০টি। উপজেলার সদরের এই হাসপাতালটি উপজেলা-বাসীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ।

জানাযায়,  বিশেষজ্ঞ চারটি পদের মধ্যে হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক (সার্জারি) ও দন্ত চিকিৎসকের পদ বিভিন্ন মেয়াদে অনেকদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। কয়েক মাস থেকে শূন্য রয়েছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পদটিও। সম্প্রতি গাইনি বিশেষজ্ঞ পদে একজনকে পদায়িত করা হয়েছে। অপরদিকে একজন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসার হাসপাতালে নিয়োগ আছেন। ছয়জন মেডিকেল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন। অন্যদিকে এক্সরে অপারেটর পদটি প্রায় আট বছর ধরে শূন্য আছে। এই আট বছর ধরেই অব্যবহৃত পড়ে আছে এক্সরে যন্ত্রটি। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এই হাসপাতালের চিকিৎসক প্রেষণে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কাজ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে জরুরি বিভাগে রোগী আসলে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে (রেফার) দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রোগী দেখেন না। চিকিৎসা সহকারীরা রোগী দেখেন। রাজনগর সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের জিল্লর রহমান বলেন, বহির্বিভাগ আন্ত:বিভাগ কোনটাতেই ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়না। ঔষধ মিলে না।

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘অভিযোগগুলো ঠিক না। যে সব রোগীকে সেবার আওতায় আনতে পারবো না। শুধুমাত্র তাদেরকে রেফার্ড করা হচ্ছে। ইমার্জেন্সিতে যে সাপোর্ট আছে এবং তা দিয়ে যাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব আমরা তা দিচ্ছি।ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার জন্য সাধারণ মানুষের মতো কর্মরত সবাই ভীতির মধ্যে থাকি। ’

হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে সাড়ে ৩৫০ রোগী দেখা হচ্ছে। আন্ত:বিভাগে ২৫/৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল ভবনের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। হাসপাতাল ভবনের কক্ষগুলো স্যাঁতসেঁতে। কক্ষে আলো স্বল্পতা। বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন কক্ষের জানালার কাঠ ভেঙে পড়েছে। ঝড়বৃষ্টি দিলে কক্ষের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। বছর চার-পাঁচ ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া হাসপাতালের পানিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের লোকজন।

 মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের ছাদের আস্তর খসে রড বেরিয়ে গেছে। তার নিচে বসেই রোগী দেখার কাজ চলছে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের জানালাগুলোর কপাট নেই। কক্ষের ভেতরটা স্যাঁতসেঁতে। উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষের ছাদে পানি ছুঁইয়ে শ্যাওলা জমেছে। আস্তর ফেটে ঝুলছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের জানালাগুলোরও একই দশা। অনেক জানালার কাঠ ভেঙে পড়েছে। এতে রোগীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। কিছু কিছু জায়গা সম্প্রতি সিমেন্ট বালু দিয়ে জোড়াতালির চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তাতেও বেহাল অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। মশার উপদ্রব বেশি বলে কয়েকজন ভর্তি হওয়া রোগী জানিয়েছেন। রাতে নিজেদের উদ্যোগে কয়েল জ্বালিয়ে রাত কাটান।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সংকট কাটাতে একটু সময় লাগবে। অপারেটর নিয়োগ না দেওয়ায় এক্সরে মেশিন চালু করা যাচ্ছে না। আর হাসপাতালের সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে ১৭ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’