শিশুদের আইফোন আসক্তি ঠেকাতে অ্যাপলকে আহ্বান

../news_img/58156 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। শিশুদের আইফোনের আশক্তিতে অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আর তাই আইফোন-আসক্তি ঠেকাতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
 

অ্যাপলের শেয়ারের মালিক জানা পার্টনার্স এবং ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স পেনশন ফান্ড নামে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাপলকে এক ডিজিটাল লক চালু করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার বিবিসি সূত্র জানায়, অনেক পরিবারেই দেখা যায় যে, বড়দের তুলনায় শিশুরা বাবা-মায়ের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করছে। এমনকি এতে তারা অভিভাবকদের চেযে বেশি পারদর্শিতাও অর্জন করে ফেলেছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটা রীতিমতো আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

তাই বড় বিনিয়োগকারীরা আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন এমন সফটওয়্যার তৈরি করে, যা বাচ্চারা কতক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে তা সীমিত করে দেবে।

এমন দুটি বিনিয়োগ কোম্পানি এই আহ্বান জানিয়েছে, যারা অ্যাপলের ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারের মালিক। জানা পার্টনার্স ও ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স পেনশন ফান্ড- এ দুই প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাপলকে এক ডিজিটাল লক চালু করার আহ্বান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার যে প্রভাব ফেলছে তা অ্যাপলকে বিবেচনা করতে হবে।

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অ্যাপল যদি এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ব্যাপারে কিছু না করে তা হলে তাদের সুনাম ও স্টক মার্কেটে তাদের মূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্প্রতি রয়টার্সের একটি রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক টিনএজার মনে করে যে তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে গেছে।

তারা তাড়নাবোধ করে যে, তাদের কোনো মেসেজ এলে সঙ্গে সঙ্গেই তার জবাব দিতে হবে। যে শিক্ষাবিদরা শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, তারা একে স্বাগত জানিয়েছেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন বলেন, এই আহ্বান শুনে তিনি খুশি হয়েছেন।

অ্যাপল এবং অন্য প্রস্তুতকারকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, স্মার্টফোনে যেন বাচ্চাদের দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর বিরতি দেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়।

অবশ্য তিনি স্মার্টফোনের ব্যাপারে 'নেশা' কথাটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন। স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকার ব্যাপারটি ঠিক কিন্তু একে নেশা বলা যায় না বলে জানান তিনি। তবে এ ব্যাপারে অ্যাপল এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।