আ.লীগ প্রার্থী মাঠে, অপেক্ষায় বিএনপির প্রার্থী

../news_img/58169 mmm.jpg

মৃদুভাষন ডেস্ক :: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। এই দুই দল অবশ্য এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এর মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক এই সভাপতি নানাভাবে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মনোনয়নপ্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে অন্য আর কোনো প্রার্থীকে এভাবে মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ আছে অনেক নেতার। সরাসরি দল করছেন না—এমন অনেকে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের কোনো শরিক নির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেনি। এই জোটের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, জিততে পারবে—এমন যোগ্য প্রার্থীকে তাঁরা মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন বোর্ড এটা চূড়ান্ত করবে। তিনি বলেন, ১৪ দল সব সময়ই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। এবারও নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে।

আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুত তিনি।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। এই সিটিতে গতবারের মেয়র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এবারও এগিয়ে আছেন। যদিও তাঁর সঙ্গে এবার ২০-দলীয় জোটের শরিক বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থর নামও উঠে আসছে।

গতকাল সোমবার রাতে ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে এই দুজনের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেছেন জোট নেতারা। জোট নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না থাকা জোট শরিক জামায়াতে ইসলামী আলাদা করে কোনো প্রার্থী দেবে না। এতে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন আর নেই। এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক প্রার্থী দেবে। জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা আবদুর রব ইউসূফী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ২০-দলীয় জোট একক প্রার্থী দেবে। আর প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোটের বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে।

তাবিথ আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দল ও জোট যদি তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, তবে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বলেছেন, এবারও তাঁদের দল একজন তরুণকে প্রার্থী করবেন।

২০১৫ সালে উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন বর্জন করেন। তারপরও তিনি প্রায় তিন লাখ ভোট পান। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে এই সিটিতে উপনির্বাচন করতে হচ্ছে। ডিএনসিসিতে মেয়র পদে এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে বাম দলগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। গত নির্বাচনে সিপিবি থেকে আবদুল্লাহ আল কাফি ও গণসংহতি আন্দোলন থেকে জোনায়েদ সাকি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এবারও বাম দলগুলো প্রার্থী দিতে পারে। সিপিবি থেকে এবারও কাফিকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজের দল এনডিএম থেকে ব্যান্ড দল মাইলসের গায়ক শাফিন আহমেদকে প্রার্থী করা হচ্ছে। সদ্য গড়া যুক্তফ্রন্ট থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না বা কাকে প্রার্থী করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ওই জোটের শরিক বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক মাহী বি চৌধুরী গত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।