সোনাইমুড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় বাড়ি ভাঙচুর

../news_img/attohotaa.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শ্বশুর পক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাধা দিতে গেলে প্রবাসীর বোন ফাতেমা বেগম এলোপাতাড়ি মারধর ও ডান কান ছিঁড়ে দুল নিয়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মফিজ মেম্বার  বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ময়না তদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় নিহতের লাশ দাফন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের পুত্র সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেনের সাথে পার্শ্ববর্তী কালিকাপুর গ্রামের মফিজ উল্যার মেয়ে মীমের ৫ বছর আগে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। শনিবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে তার ননদ ফাতেমা বেগম ও গৃহবধূ মীম দাওয়াতে যাওয়ার কথা ছিল।

গৃহবধূ না যাওয়ায় এ নিয়ে সৌদি থেকে তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ননদ ফাতেমা বেগম বিকাল ৩টার দিকে বাড়িতে এসে গৃহবধূর রুমে প্রবেশ করলে দেখতে পায় সে অজ্ঞান অবস্থায় খাটে পড়ে আছে। তৎক্ষণাৎ সে গৃহবধূর পিতার কাছে ফোন দিলে তারা এসে বাড়ির লোকজনসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। খবরটি গৃহবধূ মীমের পিত্রালয়ের লোকজন শুনে প্রবাসীর বাড়িতে এসে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ঘর-দরজা ভাঙচুর ও আলমিরা ভেঙ্গে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। এ সময় প্রবাসীর বোন ফাতেমা বেগম ও একই বাড়ির ইমরান এবং মো. বাপ্পি বাধা দিতে গেলে প্রবাসীর বোনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে ও তার কান ছিঁড়ে দুল ও গলার নেকলেস নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানার এসআই মনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহত ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সোনাইমুড়ী থানার এসআই মনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ও বিষক্রিয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যা ৪টায় নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।