ঝুলে আছে পুলিশের সর্বস্তরে পোশাক সরবরাহের প্রস্তাব

../news_img/58191 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: পুলিশের পরিদর্শক থেকে আইজি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহের প্রস্তাবটি ঝুলে আছে। জঙ্গি গোষ্ঠীসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যাতে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য ৮ মাস আগে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সদর দফতরকে জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি আছে।’
 

এরপরই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে কথা বলতে চান। এজন্য পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
রাজধানীর পলওয়েল সুপার মার্কেট, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের পাশে পার্টি হাউস সংলগ্ন দোকান, মিরপুরের কচুক্ষেত বাজারসহ বিভিন্ন দোকানে অবৈধভাবে পুলিশের পোশাকসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করে অপরাধী চক্র ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। এ কারনেই পরিদর্শক থেকে আইজি পর্যায় পর্যন্ত সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহের প্রস্তাব করে পুলিশ সদর দফতর।

গত বছর ৩০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দীন আহমেদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুলিশ সদর দফতর জানায়, ‘জঙ্গি গোষ্ঠীরা পুলিশি পোশাক ব্যবহার করে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত হতে পারে। তাই পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোশাক সামগ্রী না কিনতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘পুলিশের সব সদস্যকে সরকারিভাবে পোশাক সামগ্রী সরবরাহ করা হলে অপরাধ তৎপরতা অনেকাংশে কমে যাবে। বর্তমানে পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যদার কর্মকর্তারা সরকারিভাবে সরবরাহ করা পেশাক সমাগ্রী ব্যবহার করেন। কিন্তু পরিদর্শক থেকে শুরু করে আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাক কিনে ব্যবহার করেন। এদের জন্যও সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ করা জরুরি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা ইয়াসমীন যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছে। এটা অনেক বড় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই সময় নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হলেও পরে আর তাগাদা দেয়া হয়নি। তাই এটা নিয়ে তাড়াহুড়া করা হচ্ছে না।’ তবে পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, পুলিশের সব সদস্যকে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহে অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন হবে না। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিট ভাতা বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ টাকা দিয়েই সবার জন্য সরকারিভাবে পোশাক সামগ্রী কিনে সরবরাহ করা সম্ভব। সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে এসআই বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক আগে থেকেই সরকারিভাবে সরবরাহ করায় তাদের পোশাকের রং ও মান একই রকম থাকে। কিন্তু পরিদর্শক থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাকসামগ্রী কেনায় পোশাকের রং ও মানে ভিন্নতা দেখা দেয়। এতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মানা হয় না। মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, এপিবিএন এবং এসপিবিএনের পোশাকসামগ্রী ভিন্ন হওয়ায় বদলিজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পোশাকও পরিবর্তন করা হয়। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বাইরে থেকে পুলিশের পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় অপরাধীরা এসব কিনে মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে। এসব কারণে কয়েক মাস আগে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও সুনির্দষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।