মাওলানা সাদের ইজতেমায় অংশ নেয়া অনিশ্চিত

../news_img/58291mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::তাবলিগের অন্যতম মুরব্বি দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশ নেবেন কি-না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে কাকরাইলের এক শুরা সদস্য বলেন, এ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

সাদ-বিরোধী আরেকজন শুরা সদস্য জানান, মাওলানা সাদকে ইজতেমায় অংশগ্রহণ না করার শর্তে কাকরাইল মসজিদে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখানেই থাকবেন।

এদিকে মাওলানা সাদকে ইজতেমায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না কেন আর কেনইবা তার বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন আলেম-উলামারা, এমন প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে।

বিরোধীরা মাওলানা সাদের বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার ও প্রকাশ্যে তওবা করার আহ্বান জানালেও ঠিক কোন বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, তা নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা।

আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইলিয়াস (রহ.)-এর নাতি মাওলানা সাদ। তার মৃত্যুর পর বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ (রহ.), মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.) ও মাওলানা জুবায়েরুল হাসান (রহ.)।

এদের মধ্যে মাওলানা জুবায়েরুল হাসান একক নেতৃত্ব প্রথা বিলুপ্ত করে শুরাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু মাওলানা জুবায়েরুল হাসানের ইন্তেকালের পর মাওলানা সাদ আমিরের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পেয়ে শুরাভিত্তিক প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে ফের একক নেতৃত্বে কাজ শুরু করেন তিনি। মাওলানা সাদের এমন কর্মপন্থা নিয়ে দিল্লি নিজামউদ্দিন মারকাজের সিনিয়র মুরব্বি বিরক্ত হয়ে দিল্লি ছেড়ে নিজ নিজ অঞ্চলে চলে যান।

এদিকে দারুল উলুম দেওবন্দের আলেমরা মাওলানা সাদের চিন্তা, কথা ও কর্মপন্থায় অসংখ্য ভুল-ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগ করে তাকে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব আমির দাবি করা থেকে বিরত হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ‘ভ্রান্ত’ চিন্তা ও উক্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রকাশ্যে তওবা করতে বলা হয়।

মাওলানা সাদ কিছু বিষয়ে ভুল স্বীকার করলেও সব বিষয়ে এবং একক নেতৃত্বের প্রশ্নে অনড় থাকেন। তাবলিগ জামাতের কোনো আমির বা মুরব্বির কোনো বয়ান নিয়ে এর আগে এতো বিতর্ক হয়নি।

বিরোধী আলেমরা মনে করেন, মাওলানা সাদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় কোরআন, হাদিস, ইসলাম, নবী-রাসূল ও নবুওয়ত এবং বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর বয়ান করেছেন। যার জন্য দেওবন্দসহ বিশ্ব আলেমদের অনেকেই তাকে প্রকাশ্যে তওবা করতে বলেন। একই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশি আলেমরা তাকে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে ও বয়ান করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এসবের সুরাহা না হওয়ার মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে চলে  এলেন।

এদিকে মাওলানা সাদের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজে বিকেল ৪টার দিকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া স্ট্যাটাসটিতে বলা হয়- মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব তৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে।

সেখানে কোরআনের একটি আয়াতও উল্লেখ করা হয়, ‘… এবং তারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করেছিল, আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা কৌশলীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। -সূরা আল ইমরান: ৫৪

ওই স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, মাওলানা সাদ বাংলাদেশে নিরাপদে পৌঁছেছেন। ইনশাআল্লাহ ১১ জানুয়ারি থেকে ইজতেমার প্রথম পর্যায় শুরু হবে। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত হবে।

স্ট্যাটাসটির শেষের দিকে বলা হয়, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজতেমা হোক হকের হাতিয়ার।

মাওলানা সাদের বিরোধী আলেম-উলামারা আশঙ্কা করছেন, এই স্ট্যাটাসের কারণে তার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তাতে আরও উত্তেজনা বাড়তে পারে।